• জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণ
    আজকাল | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমে গণধর্ষণের শিকার এক আদিবাসী বালিকা। যাত্রা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ১৩ বছর বয়সী ওই নাবালিকা গণধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি  সোমবার রাতে বীরভূমের মল্লারপুর থানার শিবপুর গ্রামের কাছে ঘটেছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয় অভিযুক্তকে। ধৃতরা সমাপ্ত কোনাই , অরিন্দম সৌরেন, শুভজিৎ ঘোষ, বনমালি ঘোষ , সুজিত ঘোষ ও অভিজিৎ ঘোষ বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

     জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বীরভূমের মল্লারপুর থানার বাগানপাড়ায় যাত্রানুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরছিল নির্যাতিতা ওই আদিবাসী নাবালিকা। সেই সময় মল্লারপুর থানার শিবপুর গ্রামের কাছে নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

    বিষয়টি জানাজানি হতেই তৎপর হয় মল্লারপূর থানার পুলিশ। রাতভর আভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। নাবালিকাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের মঙ্গলবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে পাঠানো হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে মল্লারপুর থানার বাগানপাড়ায় একটি যাত্রানুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। অনুষ্ঠান শেষে একা বাড়ি ফেরার সময় শিবপুর গ্রামের কাছে ঘাঘা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই অভিযুক্তরা তাকে আটকায় বলে অভিযোগ। এরপর জোর করে তাকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়। গভীর রাতে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়েই তৎপর হয় মল্লারপুর থানার পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে দ্রুত ছয়জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতা নাবালিকাকে অবিলম্বে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

    মঙ্গলবার ধৃতদের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানোর সময় কোর্ট চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে অভিযুক্তদের আদালতের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় আদিবাসী সংগঠনের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন অভিযুক্তকে মারধরও করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে আদালত চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূম জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)