• সন্দেশখালির দুর্ঘটনা কাণ্ড: গ্রেফতার ট্রাকের মালিক নজরুল
    বর্তমান | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালির ঘটনায় সেই ট্রাকের মালিক নজরুল মোল্লাকে মিনাখাঁ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ওই ট্রাকের ধাক্কাতেই নয়ানজুলিতে গাড়ি উলটে মৃত্যু হয়েছিল ভোলানাথ ঘোষের ছোট ছেলে ও গাড়িচালকের। ন্যাজাট থানার হাতে ধৃত নজরুলকে মঙ্গলবার বসিরহাট আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে ওই ঘটনার পর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও ট্রাকচালক আলিম মোল্লা সহ শাহজাহানের বিশ্বস্ত ‘সৈনিক’রা অধরা। ফলে, ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। সিবিআইকে তদন্তে সহযোগিতা করায় ভোলানাথ ঘোষকে খুনের পরিকল্পনায় তার ‘প্রত্যক্ষ’ যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাকে জেরা করে গোটা বিষয়টি খোলসা করতে চাইছে তারা। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেল বসেই অপারেশনের ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছিল শেখ শাহজাহান। সেই ইঙ্গিত পাওয়ার পর তৎপর হয়ে ওঠে শাগরেদরা। ঠিক হয়, বুধবার বসিরহাট আদালতে যাওয়ার পথে গাড়ির ধাক্কায় ‘খতম’ করা হবে ভোলানাথকে। তার ক’দিন আগে গোপন ডেরায় বৈঠকে বসে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে শাহজাহানের বাহিনী। সূত্রের দাবি, সেখানে হাজির ছিল ঘাতক ট্রাকের চালক তথা সন্দেশখালিতে ইডি মামলায় অভিযুক্ত আলিম মোল্লা, ট্রাকের মালিক নজরুল মোল্লা, গফফর শেখ ও মোসলেম শেখের মতো ‘কোর টিম’-এর আট সদস্য। ঠিক হয়, বাসন্তী হাইওয়েতে ট্রাক নিয়ে মুখোমুখি ধাক্কা মারা হবে ভোলানাথের গাড়িতে। ভোলানাথ টার্গেট হলেও তিনি কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। মারা যান ভোলানাথের ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ ও চারচাকার চালক সাহিনুর মোল্লা। এরপর ন্যাজাট থানায় পরিকল্পনা করে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন ভোলানাথ ঘোষ। তবে, এতদিন পর্যন্ত যে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তাদের কারও নামই ভোলানাথের অভিযোগপত্রে ছিল না। বিভিন্ন সূত্র থেকে ওই চারজনের যোগের খবর পেয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এই কাণ্ডের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও শাহজাহানের বিশ্বস্ত সাগরেদেরা গ্রেফতার না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, বাকিদের খোঁজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)