• হাইকোর্টের জাল ‘অর্ডার’ দিয়ে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা, তিলজলা থেকে ধৃত ভুয়ো আইনজীবী
    বর্তমান | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইনজীবী পরিচয় দিয়ে হাইকোর্টের স্ট্যাম্প ও সিল জাল করে ভুয়ো অর্ডার তৈরির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল তিলজলা  থানা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ১১ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ভুয়ো অর্ডারের কপি তিনি এক তরুণীকে দিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ। 

    পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণী একটি রিট মামলার জন্য আইনজীবী খুঁজছিলেন। এক বান্ধবীর মাধ্যমে অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। যুবক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর সিনিয়র আইনজীবী হাইকোর্টে রয়েছেন। তাঁকে ধরেই রিট মামলা করানো হবে। এর সঙ্গে তরুণীর জমিজমা সংক্রান্ত আরও কিছু মামলা ছিল। সেই মামলাগুলিও ওই সিনিয়র ‘দেখে নেবেন’। এই কথা বলে তিনি প্রথমে তিন লক্ষ টাকা নেন বলে অভিযোগ। পরে ধাপে ধাপে আরও টাকা নিয়ে মোট ১১ লক্ষ টাকা হাতানো হয়েছে। এরপর দিগন্ত তরুণীকে হাইকোর্টের রিটের অর্ডার কপি দেন। সেখানে লেখা ছিল, মামলাটি তরুণী জিতে গিয়েছেন। অভিযোগকারিণী সেই অর্ডার কপি অন্য আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করাতে গিয়ে জানতে পারেন, ওই নম্বরে কোনও রিটই হয়নি। ভুয়ো নম্বর দেওয়া হয়েছে। এমনকি, হাইকোর্টের নকল স্ট্যাম্প ও সই রয়েছে সেখানে। এরপরই তরুণী চলতি মাসে তিলজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জালিয়াতি, প্রতারণার মামলা রুজু হয়।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত যুবক আইন নিয়েই পড়াশোনা করতেন। কিন্তু সেই পড়াশোনার পাঠ সম্পূর্ণ করেননি। তারপর বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দিতেন। আদালতে আসা মানুষজনের পক্ষে রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিতেন। এভাবে তিনি ভালো পরিমাণ টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। সমস্ত ক্ষেত্রেই তিনি জাল অর্ডার কপি দিতেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ জমা পড়েনি। তিলজলা এলাকা থেকে সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। লিগ্যাল এইডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক আইন নিয়ে পড়াশোনা করতেন। আর্থিক কারণে পড়া ছাড়তে বাধ্য হন। জাল অর্ডার তিনি তৈরি করেননি।’ সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক জাল অর্ডার তৈরি করেই যে টাকা নিয়েছেন, তার প্রমাণ রয়েছে।’ উভয় পক্ষের সওয়াল শেষে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেপাজতে পাঠান। 
  • Link to this news (বর্তমান)