চম্পক দত্ত: বুথে ভোটার সংখ্যা ৭৬১, আর তার মধ্যেই নাম বাদ গিয়েছে ৩৫৮ জনের নাম। তালিকার মৃত ভোটার মাত্র ১৩ জন, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত মাত্র ৩ জন। এমনই চিত্র মেদিনীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ১৭৭ নম্বর বুথে।
গতকাল প্রকাশিত হয়েছে এসআইআর এর খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম। সেই তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে মেদিনীপুর বিধানসভার ১৭৭ নম্বর বুথের তথ্য, যা দেখে চোখ কপালে উঠছে প্রত্যেকের।
২০২৫ সালের এস আই আর পূর্ববর্তী তালিকা অনুযায়ী এই বুথে ভোটার সংখ্যা ৭৬১। এরমধ্যে এস আই আর পর্বে নাম বাদ গিয়েছে ৩৫৮ জনের। মৃত ভোটার মাত্র ১৩ জন। স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত মাত্র ৩ জন। আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত ভোটারের সংখ্যা ৩৪২ জন।
এ প্রসঙ্গে ERO তথা মেদিনীপুর সদরের মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জি জানিয়েছেন, এই বুথটি সরকারি কলোনি হওয়ার কারণে অনেকে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে! কিংবা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইলেকশন কমিশনের SOP অনুযায়ী কোন ভোটার স্থানান্তরিত হলে তার নাম কারণ হিসেবে দেখানো হবে শিফটেট ভোটার! তাহলে এক্ষেত্রে কেন প্রত্যেককেই খুঁজে পাওয়া গেল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে? তার খুব একটা সদুত্তর দিতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের এই আধিকারিক।
এই ঘটনা নিয়ে জোর শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির দাবি - এরা আসলে প্রত্যেকেই ভুয়া ভোটার। যে ভুয়া ভোটারদের আসলে কাজে লাগানো হয় নির্বাচনের সময়।
মেদিনীপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, নাম না থাকার কারণ আগে জানতে হবে। ওটা হচ্ছে ওয়ার্ড নাম্বার ৩। ওটা পুলিশ আবাসন। শেষ তিন-চারটে ভোট যদি আমরা দেখি তাহলে দেখা যাবে ওখানে মাত্র ৪০% ভোট পড়েছে। তার মানে ৬০% যারা আগে নাম তুলেছিল তারা এখান থেকে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে। এটাই বাস্তব চিত্র এখানে হয়ে উঠেছে। এর আগে যারা বিএলও ছিল তারা নামগুলো কারেকশন করেনি। এটা কোন ভুয়ো ভোটারের বিষয় নয়। এখানে আমাদের কোন ভূমিকা নেই যা ভূমিকা আছে তা নির্বাচন কমিশনের। বিজেপি যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন বলার পাশাপাশি তাদের কে কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির কোন স্টাডি নেই ভোটার লিস্ট নিয়ে কোনদিন কাজ করে না। মেদিনীপুর বিধানসভার ৩০৪টি বুথে ফর্ম ডিস্ট্রিবিউশন থেকে ফর্ম কালেক্ট এবং ফর্ম আপলোড এর ক্ষেত্রে তৃণমূলের বিএলএরা। বিএলওদেরকে সহযোগিতা করেছে। সেখানে কোথাও দেখা যায়নি বিজেপির বিএলএদেরকে। এমনটাই বক্তব্য তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরার।
অন্যদিকে, ৮ লক্ষের অধিক নাম বাতিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সংখ্যাটা হল ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৩৩। জন শুনানিতে ডাকা হবে প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ভোটারকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের মৃত এবং শিফটিং ভোটার মিলিয়ে বাদ পড়েছে ২২ হাজার ৩৭০ জন। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা তে বাদ গেছে ২২ ৬০৫ জন। অন্যদিকে বাসন্তীতে সেই সংখ্যাটা কুড়ি হাজার ৯৫৩। গোসাবায় ১৪ হাজার ১৫২। কুলতলী বিধানসভাতে ২৫ হাজার ৭২৬। অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রায় প্রতিটি ব্লকেই প্রায় কুড়ি হাজারের বেশি নাম বাদ চলে গেছে। তাদের সকলে মৃত অথবা স্থান পরিবর্তন করেছেন এমন ভোটার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ভিন্ন এলাকার বি এল ওদের হাতে দেওয়া হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকার হার্ডকপি। যে সমস্ত মানুষদেরকে ডাকা হবে হেয়ারিং এর জন্য তাদের নামও প্রতিটি বুথে বি এল ওদের কাছে থাকবে। কারা কারা এই তালিকায় থাকছেন তাও তারা গিয়ে দেখে নিতে পারবেন সেখান থেকে।। অন্যদিকে এই কয়েকদিন প্রত্যেকটা বি এল ওকে বুথে বসারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে । কারণ যারা ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের নাম খুঁজে পাবেন না তারা যাহাতে বুথে গিয়ে বসে সেই নাম দেখে নিতে পারেন তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাতেও দেওয়া হয়ছে কপি। ফলে কোন নামের বিভ্রান্ত বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকা যোগ্য ব্যক্তিরাও যাহাতে সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারেন তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সমস্ত বিডিওদের কাছে সেই নির্দেশে এসে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।