জিএসটি: রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনও ভাবনা নেই, জানিয়ে দিল কেন্দ্র
বর্তমান | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসবের মুখে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার হার কমিয়েছে জিএসটি কাউন্সিল। বদল করা হয়েছে জিএসটির কাঠামোতেও, যার সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই কাজে রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায় যে কমবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের বার্ষিক রাজস্ব আদায় কমবে ২০ হাজার কোটি টাকা। সেই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে? কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলির ভাঁড়ার ভরতে কী কী পদক্ষেপ করবে? সংসদে অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে তাদের কোনও চিন্তাভাবনা নেই। তবে বাস্তবে যে রাজস্ব ক্ষতি হতে চলেছে, তা তারা মেনে নিয়েছে।
জিএসটি সংক্রান্ত কোনও সমস্যার সমাধানে গোড়াতেই পদক্ষেপ করে না জিএসটি কাউন্সিল। সেই সমস্যাকে সামনে রেখে গড়া হয় মন্ত্রিগোষ্ঠী, যেখানে চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে ঠাঁই পান একাধিক রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা। সেই গোষ্ঠী যা সুপারিশ করে, তা আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয় কাউন্সিলে। সংসদে প্রশ্ন ছিল, নতুন করে জিএসটির হার ঘোষণা করায় যে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কাউন্সিল কি কোনও মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করছে? উত্তরে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, না, এমন কোনও প্রস্তাব এই মুহূর্তে নেই।
অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, জিএসটির হার ও কাঠামোয় বদল আনার ফলে সার্বিকভাবে প্রায় ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে হবে। তবে যেসব পণ্য ২৮ শতাংশ জিএসটির হারের ধাপ থেকে ৪০ শতাংশের ধাপে চলে গিয়েছে, তাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত জিএসটি আদায় হবে প্রায় ৪৫ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। ফলে জিএসটি বাবদ নিট রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে ৪৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি, মনে করছে অর্থমন্ত্রক। তাহলে কেন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে না? অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, যে রাজস্ব ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, তা আসলে অঙ্কের হিসেব মাত্র। জিএসটি আদায় কোনও স্থির বিষয় নয়। তা সবসময়ই পরিবর্তনশীল। যে হারে জিএসটির হার পরিবর্তিত হয়েছে, তাতে কর আদায় আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, জিএসটি বাবদ যে রাজস্ব আদায় হয়, তার বিশ্লেষণ করে, কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তে আসার জন্য গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠীতে সম্প্রতি ঠাঁই হয়েছে বাংলার।। এরাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তিনি ক্ষতিপূরণ আদায়ে ওই কমিটিতেই সরব হবেন।