• খসড়া তালিকায় তৃণমূলের জীবিত কাউন্সিলর মৃত! BLO-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ কমিশনের...
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: ডানকুনিতে জীবিত তৃণমূল কাউন্সিলর এসআইআর খসড়া তালিকায় মৃত! শোকজের মুখে পড়তে চলেছেন সংশ্লিষ্ট BLO। রাজ্য়ের আরও দু'জায়গায় একই ঘটনা নজরে এসেছে কমিশনের। সেখানকার BLO-দেরই শোকজ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। সূত্রের খবর তেমনই।

    নজরে ছাব্বিশ। বাংলায়  SIR-র কাজ শেষ। গতকাল, মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় মৃত হিসেবে নাম রয়েছে  ডানকুনি পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে'র। যা নিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। গতকাল, মঙ্গলবার খসড়া তালিকায় নিজের নাম মৃত হিসেবে দেখার পর, সোজা  কালিপুর শ্মশানে হাজির তৃণমূল কাউন্সিলর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর অনুগামীরা। কাউন্সিলের দাবি,  'ইলেকশন কমিশন যখন আমাকে মৃত দেখিয়ে দিয়েছে, তখন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার এসে আমার সৎকার করুন'। সেই ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। 

    এদিকে দুর্গাপুরে ভোটাররা 'নিখোঁজ'।  সকলেই শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লী এলাকার বাসিন্দা। ৭০ নম্বর বুথের ১০ 'নিখোঁজ' ভোটারের দাবি, 'আমরা ফর্ম জমা দিয়েছিলাম।  আমাদের কাছে ফর্মে রিসিভ কপিও আছে। কিন্তু এখন লিস্টে লেখা রয়েছে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অনুপস্থিত'। তাঁরা বলেন, 'আমরা তো এই বিষয়টি দেখে বড় চিন্তায় রয়েছি। গাফিলতিটা কার বিএলও'র না নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের আমরা বুঝে উঠতে পারছি না'।

    মৃত্যু, স্থানান্তর এবং গণনা ফর্ম জমা না দেওয়ার মতো কারণে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৭,০৮,১৬,৬৩১। SIR-এর আগে থাকা ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ ভোটারের তুলনায় যা ৫৮,২০,৮৯৮ জন কম। 

    রাজ্য়ে এখনও পর্যন্ত  আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯।  চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এখন খসড়া তালিকায় যদি কারও নাম বাদ পড়ে, সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে নাম তোলা যাবে। ফর্ম ৬ ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। কোথায় ফর্ম জমা দিতে হবে, সে ব্য়াপারে সহযোগিতা করবেন BLO০রাই। প্রয়োজনে হিয়ারিং ডাকা হতে পারে।

    কমিশন সূ্ত্রে খবর, ২৩ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে SIR-এর হিয়ারিং। আজ, বুধবার থেকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে হিয়ারিংয়ের চিঠি। ২০০২ ভোটার লিস্টে নাম নেই এরকম অনেকের নাম খসড়া তালিকায় আছে। অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য তাদের অনেককেই কমিশন প্রয়োজনে ডাকতে পারে।  সেক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রেসক্রাইব ১৩ টি নথির মধ্যে একটি দেখাতে হবে। আবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের কারও নামই যদি না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হিয়ারিংয়ের ডাকা হতে পারে। আধার ছাড়া বাকি ১২ টি নথির মধ্যে একটি দেখাতে হবে। তাহলেই নাম থাকবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। আবার ভুল তথ্য় দিলে বা বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের বেশি হলে কিংবা ভোটারের সঙ্গে অভিভাবকের বয়সের অযৌক্তিক গরমিলের  (Logical discrepancy) মতো আর বেশ কয়েকটি হিয়ারিংয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)