প্রসেনজিত্ মালাকার: রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীতে (Visva Bharati) ছাত্রীরা বিক্ষোভ (Student Movement) আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাদের মূল অভিযোগ ক্যান্টিনে (Visva Bharati Canteen) তাদেরকে একদমই নিম্নমানের বাজে (Low quality food in Visva Bharati canteen) খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও খাবার খাওয়ার স্থান ও অত্যন্ত নোংরা। সেই বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষ-সহ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদেরকে একাধিকবার জানালেও কোনরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারপরই কত কাল মধ্যরাতে তারা বিক্ষোভ আন্দোলন করছেন।
ছাত্রীরা থালা বাজিয়ে গান গেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দীর্ঘ তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পর আধিকারিকরা কথা বলতে এলেও কোনো সদুত্তর তারা দেননি। ছাত্রীরা আশঙ্কা করছেন আন্দোলনে বসার কারণে তাদের উপর প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি গ্রহণ করা হতে পারে। কোনভাবেই জনসমক্ষে ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজি নন তারা। সব মিলিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্বভারতীর আবাসিক পড়ুয়ারা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবার খান ৷ তার জন্য প্রতি মাসে টাকা দিয়ে কুপন সংগ্রহ করে রাখতে হয় । সেই মতো ডিসেম্বর মাসের কুপন সংগ্রহ করে রেখেছেন পড়ুয়ারা ৷ অভিযোগ, সারা মাসের কুপন থাকা সত্ত্বেও ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্তই খাবার দেওয়া হবে । আর এই মাসে দেওয়া হবে না ৷ এর কারণ হল, ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা, যার সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব থাকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের উপর ।
কিন্তু, পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষা ও নানান কর্মসূচি রয়েছে। তাই কেন কুপন থাকা সত্ত্বেও পুরো মাস ক্যান্টিন থেকে খাবার দেওয়া হবে না- এই মর্মে মধ্যরাতে থালা বাজিয়ে শুরু হয় ছাত্রীদের বিক্ষোভ। বিভিন্ন আবাসিক ছাত্রীরা 'হেরিটেজ' ক্যাম্পাসে বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ শুরু করে ৷ হিন্দি ভবনের সামনের রাস্তায় বসে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রীরা ৷ পরে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা আধিকারিক সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন ৷ দিনে এই বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, এই আশ্বাস দেওয়ায় কয়েকঘণ্টা পর ওঠে ছাত্রীদের বিক্ষোভ ।
বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের মধ্যে অঙ্কিতা রাজ সিং, নাসরিন খাতুন, বিলকিস খাতুন বলেন, "আমরা গরু-ছাগল নাকি যে হঠাৎ করে বলবে 22 তারিখের পর আর খাবার দেওয়া হবে না ৷ আমরা তো সারা মাসের কুপন কেটে রেখেছি ৷ প্রত্যেকের কোনও না কোনও কাজ, সমস্যা আছে ৷ বাড়ি নাও যেতে পারে ৷ তাই আমাদের স্পষ্ট দাবি কুপন কেটে রেখেছি, পুরো মাস খাবার দিতে হবে ৷ আর এই বিষয়টার সমাধান করতে হবে প্রোক্টরকে ৷ তা না হলে প্রয়োজনে আমরা কুপন বয়কট করব, ক্যান্টিনের খাবার আর খাব না ।"
প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়েও ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে । এই নিয়ে একাধিকবার ছাত্র আন্দোলনে উত্তালও হয়েছে বিশ্বভারতী । দায়িত্ব পেয়েই খাবারের মান খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে ঘুরে দেখেছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ । কিন্তু, এবার খাবারের মান নয়, কুপন থাকা সত্ত্বেও সারা মাস খাবার দেওয়া হবে না বলায় মধ্যরাতে উত্তাল হয় 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস।