চিত্তরঞ্জন দাস: বহু প্রতীক্ষার তৈরি হয়েছে স্থায়ী সেতু। যাতায়াতও শুরু হয়েছে। কিন্তু জয়দেব মেলার (Jaydev Mela) সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অস্থায়ী সেতুই যে মেলার ঐতিহ্য, সেটা কি ভুলে যাচ্ছে প্রশাসন? পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের সীমান্তে অজয় নদের (Ajay River) দু'পাড় জুড়ে বসে শতাব্দীপ্রাচীন জয়দেব কেন্দুলির মেলা (Jaydev Kenduli Mela)। আর সেই মেলাকে একসূত্রে বেঁধে রাখে এই অস্থায়ী সেতুই। এখনও অস্থায়ী সেতু তৈরির অনুমতি না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার বিদবিহার এলাকার মানুষজন।
সেতু-বিক্ষোভ
আজ, বুধবার সকাল থেকেই অজয় নদের পাড়ে চলছে বিক্ষোভ। স্থায়ী সেতু থাকলেও নদের পাড়ের বাসিন্দাদের মেলায় পৌঁছতে হলে ঘুরপথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধু যাতায়াতের সমস্যা, নাকি মেলার ঐতিহ্যের উপর আঘাত? বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা, অস্থায়ী সেতু ছাড়া জয়দেব মেলা অসম্পূর্ণ। সেতু না হলে এই পাড়ের আখড়ার কী হবে?
পুণ্যস্নানে ছেদ
মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান সেরে জয়দেব কেন্দুলিতে পৌঁছনোর সেই চির চেনা পথ বন্ধ হলে চরম দুর্ভোগ বাড়বে পুণ্যার্থীদের। স্থানীয় বাসিন্দা রাজু হাড়ি বলেন, "আমরা ছোট থেকে মকর সংক্রান্তিতে অজয় নদীর স্নান করে জয়দেব পদ্মাবতীর মন্দিরে যাই। কিন্তু এ বছর অস্থায়ী সেতু না হলে আমরা যাব কোন দিকে? নতুন স্থায়ী সেতু হয়ে ঘুরতে হলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে আমাদের। দুর্ঘটনার কবলেও পড়তে হতে পারে। বহু মানুষ মেলায় ব্যবসা করেন। তাঁদেরও পেটে টান পড়বে। আমরা এই অস্থায়ী সেতুর দাবি করছি।"
ভাবাবেগে আঘাত নয়
যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, "এই সমস্যার কথা আমি শুনেছি। গলসির বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের ভাবাবেগে আঘাত যাতে না লাগে, সেই জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি এই সমস্যার যাতে সুরাহা হয়।"