জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'ভুল হয়েছে, অস্বীকার করার জায়গা নেই'। মেসিকাণ্ডে রাজনীতি না করার আবেদন জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, 'তদন্ত কমিশন বসিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য় পুলিসের ডিজি, বিধাননগর কমিশনারেটে সিপি, যুবভারতীর ceo এবং তার সাথে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্রও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রহণ করেছে। কয়েকজনের আচার আচরণে আন্তর্জাতিক স্তরে হয়তো বাংলার মানহানি হয়েছে'।
মেসিকাণ্ডে তোলপাড় বাংলা। অভিষেক বলেন, ''১ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়েছে, এই দৃষ্টান্ত হয়তো মানুষের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাওয়া, ভারতের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই সৌজন্য দেখাননি। বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। এটা কাম্য় নয়, কখনই কাঙ্খিত ছিল না। কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর, সে রাজ্য় সরকার বা প্রশাসন কী করছে, সেটাও আমাদের সকলে নজর রাখা উচিত'।
অভিষেকের আরও বক্তব্য, 'একাধিক রাজ্য়ে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর, ধরপাকড় তো দূরের কথা, প্রকাশ্যে এসে মানুষের উদ্দেশে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা রাজ্যের প্রশাসনিক মুখ্য়মন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার কথা আমরা গত সত্তর বছরে স্বাধীনতার পর থেকে কোথাও দেখতে পায়নি। রেলের একে এক দুর্ঘটনা ঘটছে। শয়ে শয়ে লোক মারা যাচ্ছে। রেলমন্ত্রীর কোথাও কোনও ক্ষমা প্রার্থনা করা আমারা দেখতে পাইনি। বিজেপির নেতাদের মতো মুখ্যমন্ত্রীর কোনও অহংকার নেই, ঔদ্ধত্য, দম্ভ নেই। রাজ্য প্রশাসনের ভুল বা গাফিলতি ছিল, সেটা তো স্বীকার করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন'।
মেসিকাণ্ডে অভিষেকের বার্তা, 'এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে আর না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে'। তাঁর মতে, 'এই নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছে, তাঁরা বাংলাকে আর ছোট করছে। ফুটবলের মক্কা-মদিনা বলতে আমরা বাংলাকে বোঝাই'। বলেন, 'যে আশা উত্সাহ নিয়ে দর্শকরা এসেছিল, কয়েকজন বেশি উত্সাহ নিয়ে আদিখ্যেতা দেখাতে গিয়ে ফ্যানদের নিরাশ করেছে, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে'।
অভিষেকের সাফ কথা, 'উদ্যোক্তারা নিশ্চিতভাবে দায়ী। কারণ যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, কোনওটাই হয়নি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে তিনি বিমানবন্দরে ফিরে অন্য রাজ্যে রওনা দিয়েছেন। পুজোর নতুন জামা কাপড় না কিনে, মাসের পর মাসে টাকা জমিয়ে, কেউ ১০ হাজার, কেউ আট হাজার, কেউ বারো হাজার, কেউ পনেরো টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মেসিকে দেখবে বলে এসেছিল। তাদের হতাশ হওয়ার কারণ আছে। এটা যথার্থ। এটা নিয়ে যেন রাজনীতি না হয়। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল, তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তদন্ত চলছে। যাঁদের গাফিলতি পাওয়া যাবে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেবে'।