• বিগ ব্রেকিং! আরজি কর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত... এবার নির্যাতিতার বাবা-মা'কেই?
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • রাজীব চক্রবর্তী:  আরজি কর মামলার আইনি লড়াইয়ে এবার দিল্লি থেকে ফিরল কলকাতায়। দীর্ঘ শুনানির পর বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, আরজি করের চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে দায়ের করা মামলাটির শুনানি এবার থেকে কলকাতা হাইকোর্টেই হবে। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলার সমস্ত নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ

    শীর্ষ আদালত এ দিনের শুনানিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। নির্যাতিতার বাবা-মাকে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্টের একটি প্রতিলিপি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) কী পদক্ষেপ করছে, সে সম্পর্কে নির্যাতিতার পরিবার সরাসরি তথ্য জানার সুযোগ পাবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই নৃশংস ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছিল। ওই ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। তবে আরজি কর-কাণ্ডে মূল অভিযুক্তকে প্রাথমিক ভাবে দোষী সাব্যস্ত করার পরেও শীর্ষ আদালত একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একাধিক শুনানি হয় এবং কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এই মামলা করার পরে গত বছরের ২০ আগস্ট  জাতীয় টাস্ক ফোর্স (NTF) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, একই বিষয়ের শুনানি একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে চলতে পারে না। এখন মামলাটি হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    নির্যাতিতার পরিবারের লড়াই ও অসন্তোষ

    মামলাটি যখন হাইকোর্টে ফিরছে, তখন নির্যাতিতার বাবা-মার কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকুতি। গত সোমবার তাঁরা সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই অপরাধে কেবল ধৃত সঞ্জয় রায় নয়, বরং একাধিক ব্যক্তি জড়িত। নির্যাতিতার মা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, 'মেয়ের মৃত্যুর বিচার ছিনিয়ে আনবই। প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে তুলে নেব।' তাঁর বাবাও একই সুরে সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। এই প্রেক্ষাপটে স্টেটাস রিপোর্ট পাওয়ার নির্দেশ তাঁদের লড়াইয়ে আইনি হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

    বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন নির্দেশ দেয়, নির্যাতিতার বাবা-মাকে মামলার স্টেটাস রিপোর্টের একটি প্রতিলিপিও দিতে হবে। ফলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্যাতিতার পরিবার সরাসরি তথ্য জানার সুযোগ পাবে।

    আইনি প্রেক্ষাপট: শিয়ালদহ আদালত থেকে হাইকোর্ট

    চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ২০ জানুয়ারি বিচারক অনির্বাণ দাস তাঁকে আজীবন কারাবাসের সাজা দেন। তবে নির্যাতিতার পরিবার প্রথম থেকেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই আবেদন জানানো হলেও, সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলায় তখন তা থমকে ছিল। এরপরে শীর্ষ আদালতেও একই আবেদন করেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তা নিয়ে শুনানিও হয়। কিন্তু একই আবেদন নিয়ে কেন সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি হবে? প্রশ্ন তোলেন শীর্ষ আদালতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তাঁর বক্তব্য ছিল, একই আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’টি আদালতে শুনানি চলতে পারে না। হয় উচ্চ আদালত শুনবে, নয় তো শীর্ষ আদালত। এবার সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি ছেড়ে দেওয়ায় হাইকোর্টে সেই শুনানির পথ পরিষ্কার হল।

    আরজি কর কাণ্ড কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, এটি হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের বিচার চাওয়ার আন্দোলনের প্রতীক। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে মামলার আইনি লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র এখন পুরোপুরি কলকাতা। নির্যাতিতার পরিবার এবং আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের নজর এখন হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)