জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলা কি এবার টাকার পাহাড়ে গিয়ে বসবে? অন্তত তেমনই কিন্তু ইঙ্গিত। আগেই জানা গিয়েছিল এ রাজ্যের মাটির তলায় বিপুল তেল। যার জেরে হাজার হাজার কোটি টাকা আসবে রাজ্যের ভাঁড়ারে। নতুন পেট্রোলিয়াম নীতি মোতাবেক (Petroleum & Natural Gas Rules, 2025) জানা গিয়েছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে বাংলার এই অয়েলফিল্ডে। স্বয়ং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী (Union Minister of Petroleum and Natural Gas Hardeep Singh Puri) বলেছেন, অচিরেই এর জটিলতা কাটবে। ওএনজিসি ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে অশোকনগর তেল খনি থেকে উৎপাদন।
ওএনজিসি এবং পশ্চিমবঙ্গ
ওএনজিসি ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শীঘ্রই শুরু হচ্ছে অশোকনগর তেল খনি থেকে উৎপাদন। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর তেল খনি থেকে খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে চলেছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার জন্য অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, এই তেলের ব্লকে মজুত তেলের পরিমাণ এবং উৎপাদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, আমাদের অনুমান, এই ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪৫০ ঘনমিটার গ্যাস এবং সমপরিমাণ তেল উৎপাদিত হতে পারে!
বিনিয়োগ
ওএনজিসি এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। আগামী দিনে এই ব্লকের উন্নয়নে আরও প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্প-মানচিত্র
জমি অধিগ্রহণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের জন্য ওএনজিসি রাজ্য সরকারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারও এই বিষয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। অশোকনগর তেল খনি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। এটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথম অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এটি ভারতের অষ্টম উৎপাদনকারী বেসিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতদিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ের মধ্যে ছিল এটি। এবার পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষ করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর অশোকনগর প্রকল্প সেই দিশায় একটি বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।