• বাংলাদেশের পাসপোর্ট আর RG Kar -এর বার্থ সার্টিফিকেট! স্বামীর নাগরিকত্ব নিয়ে CBI তদন্ত চাইলেন ভারতীয় স্ত্রী, তারপর...
    ২৪ ঘন্টা | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অর্ণবাংশু নিয়োগী: বিএল‌ও'দের অ্যাপে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে SIR খসড়া তালিকা আপলোডের কাজ বাংলায় হয়ে গিয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। এস‌আইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ার প্রথম পর্ব শেষে মঙ্গলবার খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন‌ ধার্য করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission) আগেই। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই বুথ‌ওয়াড়ি বিএল‌ও'দের অ্যাপে কাদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে তা জানা যাচ্ছিল।

    সিইও অফিস সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথের বিএল‌ও'দের অ্যাপে খসড়া তালিকা আপলোডের পাশাপাশি ছাপার অক্ষরে তালিকাও বুথে বুথে পৌঁছে যাবে। মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ৫৯ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। পাশাপাশি ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, যাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে ডাকা হতে পারে।

    ২৩ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে SIR-এর হিয়ারিং। খবর কমিশন সূত্রে। এখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর, যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি, তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। যদি আপনার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং যোগ্য ভোটার। 

    আর ঠিক এই আবহেই, ওপার বাংলার স্বামীর নাগরিকত্ব নিয়ে সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করলেন এপাড় বাংলার স্ত্রী। স্ত্রীর আবেদনে সায় কেন্দ্রের। ২০১৩ সালে ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তিনি থাকতেন বাংলাদেশে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ভারতীয়। কোর্টে পেশ করা বাংলাদেশী পাসপোর্ট সঠিক। ছয় মাসের ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি - আদালতে জানাল কেন্দ্র। 

    যদিও স্বামীর কাছে রয়েছে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের জন্ম সার্টিফিকেট। সেখানে তার জন্ম ১৯৯২ সালে ডিসেম্বর মাস। নাগরিকত্ব আইনে প্রশ্ন তুলেই মামলা করেছেন ভারতীয় নাগরিক স্ত্রী। কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট তলব। 

    এর আগে, ও পার বাংলার পাত্রীর সঙ্গে এ পার বাংলার পাত্রের বিয়ে হয়েছে ১১ বছর। ২০২২ সালে ভারতের নাগরিক হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন স্ত্রী। তবে এখনও পর্যন্ত জোটেনি নাগরিকত্ব। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশাহারা কোচবিহারের বাসিন্দা চঞ্চলকান্তি রায়। তাঁর দাবি, ‘আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

    এখন খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নিজেকে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং যোগ্য ভোটার প্রমাণ করতে কিছু নথি জমা দিতে হবে। কোন কোন নথি? 

    মোট ১১টি নথি গ্রহণযোগ্য হবে। কী কী?

    ১) রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী অথবা পেনশনভোগী হিসেবে পরিচয়পত্র

    ২) ১৯৮৭ সালের আগে পোস্ট অফিস, ব্যাংক, এলআইসি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথি

    ৩) জন্ম শংসাপত্র

    ৪) পাসপোর্ট

    ৫)মাধ্যমিক বা অন্য যে কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র

    ৬) রাজ্য সরকারের অধীন কোনও সংস্থার দেওয়া আবাসিক শংসাপত্র

    ৭) ফরেস্ট রাইটসের শংসাপত্র

    ৮) জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট

    ৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC) — শুধুমাত্র আসামের ক্ষেত্রে

    ১০) স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা পারিবারিক রেজিস্টার

    ১১) সরকারের দেওয়া জমি লিজ বা বাড়ি লিজ সংক্রান্ত শংসাপত্র

    শুধুমাত্র আধার কার্ড এক্ষেত্রে একক পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

    কেউ যদি ভুয়ো নথি জমা দেন, তাহলে কী শাস্তি হবে?

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৩৩৭ অনুযায়ী, কেউ নথি জাল করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি ফর্ম কমিশনের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ভোটারের দেওয়া সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তবেই ঠিক করা হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ডাকা হবে কি না। আগে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি শুনানি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এখন কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করতে প্রয়োজনে দিনে একশোর বেশিও শুনানি হতে পারে।

    SIR এবং NRC আবহে এই ধরনের ঘটনা উঠে আসছ রোজই। কখনও নাগরিকত্ব কখনও ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে রাজ্য-সহ দেশ উত্তাল। যোগ্য হলেও যাদের নাম খসড়া তালিকায় নেই, তাদের নাম কবে আবার খাতায় উঠবে, তা নিয়ে রয়েছে প্রবল সংশয়। সময় যত এগোচ্ছে, কমিশন রাজ্য-সংঘাতও তত তীব্র। এই উত্তপ্ত আবহে রাজ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়েও নানা মুনির নানা মত। এই নিয়ে যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর কাছে খবর আছে, ফেব্রুয়ারীতেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা করবে কমিশন।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)