বিধান সভার পরে পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটেও ব্যাপক বিপুল জয় পেল মহায়ুতি। একই সঙ্গে একক বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এল বিজেপি। ২৮৮টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২০৭টি পুরসভা গিয়েছে মহায়ুতির দখলে। মহা বিকাশ আগাড়ি আটকে গিয়েছে ৪৪টিতে।
রবিবার ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়াল মহারাষ্ট্রে। খেতে খেতে স্ট্রংরুমে ঢুকে পড়া থেকে শুরু করে গণনায় কারচুপির অভিযোগ - বাদ গেল না কিছুই। বিক্ষোভ, অবরোধও চলল। তার মধ্যেই শুরু হলো গণনা। প্রাথমিক ট্রেন্ডে পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটে এগিয়ে বিজেপি, শিবসেনা (শিন্ডে শিবির), এনসিপি-র মহায়ুতি। টিমটিম করে জ্বলছে কংগ্রেসের মহাবিকাশ আগাড়ি জোট।
প্রাথমিক ট্রেন্ডেই মহায়ুতির জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। রবিবার গভীর রাতে সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ১১৭টি পুরসভা সভাপতির পদ। এর পরেই রয়েছে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা (৫৩টি)। তার পরে এনসিপি (৩৭টি)। এনসিপি মোট ৮০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৭টিতে জয় পেয়েছে।
বিরোধী দলগুলির মধ্যে কংগ্রেস ২৮টি পদ জিতেছে। এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) পেয়েছে ৭টি, আর উদ্ধব ঠাকরে-নেতৃত্বাধীন শিবসেনা মাত্র ৯টি পুরসভার সভাপতি পদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
ফল প্রকাশের পরেই মহারাষ্ট্রবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে X হ্যান্ডলে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, ‘মহারাষ্ট্র উন্নয়নের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি ও মহায়ুতির উপরে আস্থা রাখার জন্য আমি মহারাষ্ট্রবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। এটি আমাদের জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনার প্রতি মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন।’
প্রাথমিকে ট্রেন্ডে এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসতেই মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল বলেন, ‘সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের জোরেই বিজেপি এগিয়ে। বিরোধীরা একজোট হলেও পুরভোটের ফলাফলে কোনও পরিবর্তন হবে না।’
২০২৪-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল ব্যাবধানে জিতেছে মহাযুতি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আশা করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। মহারাষ্ট্রে কৃষক সংকট নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। মহিলা ও কৃষকদের সরকারি প্রকল্পে আংশিক অর্থ প্রদান নিয়েও সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। ভোটেও তার প্রভাব পড়বে বলে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে কার্যক্ষেত্রে সেই রকম কিছুই দেখা যায়নি।