সম্পর্কে টানাপোড়েন, তিলজলায় লিভ-ইন পার্টনারকে খুন তরুণীর
বর্তমান | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে লিভ-ইন পার্টনারের হাতে খুন হলেন যুবক। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে তিলজলা এলাকায়। মহম্মদ জাহিদ (২৫) নামের ওই যুবককে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ। ব্যাপক রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সঙ্গিনী ফিরদৌস পারভিনকে গ্রেফতার করেছে তিলজলা থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহিদ ও পারভিন পাশাপাশি পাড়ায় থাকত। জাহিদের জুতোর ব্যবসা রয়েছে। বছর পাঁচেক আগে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান জাহিদ। দু’জনে বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে বেড়াতেও গিয়েছেন। বছর তিনেক হল, তাঁরা লিভ-ইনে থাকতে শুরু করেন। বান্ধবীর বাড়িতেই থাকতেন জাহিদ। স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রথম দিকে দু’জনের সম্পর্ক ভালো ছিল। কিন্তু পরের দিকে বিভিন্ন কারণে মতবিরোধ হয়। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হত বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, তরুণী প্রায়ই টাকা দাবি করত। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে গোলমাল চরমে ওঠে। এমনকী, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেয় মহিলা। উলটোদিকে, তরুণীর অভিযোগ, তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত জাহিদ। ফলে উভয়ের মধ্যে তিক্ততা ক্রমেই বাড়তে থাকে। অভিযোগ, তরুণী বিয়ের কথা বললে জাহিদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিত না। এই নিয়ে ফিরদৌসের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। সম্পর্কে টান ধরে।
যুবকের পরিবারের অভিযোগ, ওই মহিলা ভয় দেখিয়ে টাকা নিত। পুলিশ তদন্তে নেমে জেনেছে, শনিবার রাতে জাহিদ সঙ্গিনীর সঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। সেই সময় ফের টাকাপয়সার প্রসঙ্গ উঠলে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, তার জেরেই ফিরদৌস রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে সঙ্গীকে। জাহিদের পেট, বুক ও হাতে ছুরির কোপ পড়ে। রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ওই তরুণী। প্রতিবেশীরা ওই যুবককে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
তিলজলা থানার অফিসাররা মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি লিভ-ইনে ছিলেন। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই তরুণী তার পার্টনারকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে। খুনের কেস রুজু করে তিলজলা থানা। রাতেই ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ফিরদৌসকে। রবিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের হয়ে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, ফিরদৌস এই ঘটনায় জড়িত, তা স্পষ্ট নয়। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, ওই তরুণী খুন করেছে। তাকে হেপাজতে নিয়ে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করতে হবে। সওয়াল শেষে আদালত তাকে পুলিশ হেপাজতে পাঠায়।