‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে’র বলে সুবিচার, ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্তকে রেহাই সুপ্রিম কোর্টের
বর্তমান | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
নয়াদিল্লি: ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে সম্প্রতি বেকসুর খালাস করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বলেছে, পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে সেই সম্পর্কে অবনতির ঘটায় তাতে অপরাধের রং দেওয়া হয়েছিল। ওই ব্যক্তির জামিনের আর্জি নিয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অভিযোগকারী মহিলার যে ফের পুনর্মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে’র বলে সেই ইঙ্গিত মিলেছিল। এবিষয়ে মার্চ মাসেই নোটিশ ইশ্যু করা হয়েছিল।
২০১৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল দু’জনের মধ্যে। কিন্তু সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত না গড়ানোয় ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৩৭৬ (২)(এন) ধারায় মামলা দায়ের করেন মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড শোনায়। হাইকোর্ট জামিন দিতে অস্বীকার করায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ব্যক্তি।
এরপর ওই ব্যক্তি, অভিযোগকারী মহিলা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চেম্বারে ডেকে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন নাগরত্ন ও সতীশ চন্দ্র শর্মা। দু’জনের সম্পর্ক কেমন ছিল, তা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন বিচারপতিরা। পরিবারের সম্মতিতে দু’জনেই জানান, তাঁরা বিয়েতে রাজি। সেই সূত্রে বিয়ের জন্য ওই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেছিল শীর্ষ আদালত। গত জুলাই মাসে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। শুনানিতে দু’পক্ষের তরফেই জানানো হয়, তাঁরা সুখে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। সেকথা শুনে চলতি মাসেই চূড়ান্ত রায়দান করে শীর্ষ আদালত। ধর্ষণের মামলা থেকে ওই ব্যক্তিকে রেহাই দিয়ে তাঁর সাজা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিকে সরকারি হাসপাতালে তাঁর চাকরিতে পুনর্বহাল করার নির্দেশও জারি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার মুখ্য মেডিকেল অফিসারকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সাসপেনশন অর্ডার খারিজ করে ওই ব্যক্তিকে চাকরিতে ফেরাতে হবে। তাঁর বকেয়া বেতনও মিটিয়ে দিতে হবে।