অখিলেশ-তেজস্বী থেকে দিগ্বিজয়, কংগ্রেসের ভিতরে ও বাইরে রাহুলের উপর ক্ষোভ বাড়ছে
বর্তমান | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শারদ পাওয়ার। জগন্মোহন রেড্ডি কিংবা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের শক্তিশালী রাজ্য নেতা-নেত্রীদের দলে ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরা দলত্যাগ করায় রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ১০ বছর আগেও কংগ্রেস রাজনীতিতে একটি শব্দবন্ধ জনপ্রিয় হয়েছিল। বাবা ব্রিগেড। রাহুল ব্রিগেড। অর্থাৎ রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সঙ্গী একঝাঁক তরুণ কংগ্রেস নেতা। যাঁদের সিংহভাগ কোনও না কোনও কংগ্রেসের জনপ্রিয় নেতার পুত্র-কন্যা। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, জিতিনপ্রসাদ, শচীন পাইলট, নবীন জিন্দাল, আর পি সিং, মিলিন্দ দেওরা, দীপেন্দর সিং হুডা, কুলদীপ সিং বিষ্ণোই...। এই তালিকার সিংহভাগ এখন আর কংগ্রেসে নেই। পাইলট ও হুডা ছাড়া সকলেই কংগ্রেস ছেড়ে অন্যান্য দলে চলে গিয়েছেন। কারণ প্রত্যেকেই কমবেশি জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক পরিণতমনস্কতা নেই। পুরনো কংগ্রেসিদের মধ্যে কপিল সিবাল, গুলাম নবি আজাদরা গত দুই তিন বছরে দল ত্যাগ করেছেন। শশী থারুর দলত্যাগের দিকে পা বাড়িয়েই রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দলের নেতৃত্বের প্রায় বাক্যালাপ বন্ধ। এবার কি দিগ্বিজয় সিং? এক সপ্তাহ আগে দিগ্বিজয় সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলেন, গরিব অনগ্রসরদের স্বার্থ সুরক্ষার রাজনীতিতে রাহুল গান্ধী চ্যাম্পিয়ন। কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের যেমন আমূল সংস্কার প্রয়োজন, তেমনই কংগ্রেসেরও সংস্কার দরকার। এবার একটু কংগ্রেসের দিকে নজর দিন। দিগ্বিজয় সিংএর ওই মন্তব্য ও কটাক্ষ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার পর আবার শনিবার দিগ্বিজয় সিং বোমা ফাটালেন। তিনি এদিন ছবি প্রকাশ করে বলেন, এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সিনিয়র নেতাদের পায়ের কাছে বসে থাকা নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তারপর দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বিজেপি এবং আরএসএসের সাফল্য এটাই। এখানে সাধারণ কর্মী নেতাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারেন। এটাই গণতন্ত্র। অর্থাৎ দিগ্বিজয় সিং ফের রাহুল এবং সোনিয়া গান্ধীকেই নিশানা করলেন। এই নিয়ে সুযোগ পেয়ে বিজেপিও শ্লেষাত্মক মন্তব্য করতে ছাড়েনি। শনিবার বিজেপি মুখপাত্র রাজ্যসভার সদস্য সুধাংশু দ্বিবেদী বলেন, এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের মন্তব্য করা সাজে না। তবে রাহুল গান্ধীর অপরিপক্কতা নিয়ে স্বয়ং বারাক ওবামা তাঁর গ্রন্থেই লিখে লিখেছেন। কংগ্রেসের নেতৃত্ব যত দ্রুত একথা বুঝতে পারবে ততই তাদের নিজেদের জন্য ভালো। বিজেপির এসব নিয়ে সমস্যা নেই। উল্লেখ্য, ঠিক যেদিন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলছে দিল্লির ইন্দিরা ভবনে, সেদিনই দিগ্বিজয় সিংয়ের তাৎপর্যপূর্ণ বিজেপি স্তুতির কারণ কী? দিগ্বিজয় সিং কি একা? নাকি কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের লাভা জমা হয়েছে? ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শারদ পাওয়ার বৃহন্মুম্বই পুরসভা নির্বাচনে আবার ভাইপো অজিত পাওয়ারের দলের সঙ্গে জোট করছেন। অর্থাৎ ইন্ডিয়া জোট ছাড়বেন তিনি। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশের ভোটে অখিলেশ যাদব কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যেতে নারাজ সেটা এখন থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিহারের পরাজয়ের পর তেজস্বী যাদব দূরত্ব বাড়াচ্ছেন কংগ্রেসের সঙ্গে। আরজেডি সরাসরি অভিযোগ তুলেছে রাহুলের বিরুদ্ধে। বিহার ভোট চলাকালীন তিনি আচমকা উধাও হয়ে যান। সব মিলিয়ে কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর জন্য নতুন বছর একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে আসছে।