• রাজ্যে অজিত ও কেন্দ্রে শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে, ভাঙন-পূর্ব ফর্মুলাতেই কি পাওয়ার পরিবারে পুনর্মিলন!
    বর্তমান | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • মুম্বই ও পুনে: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘পুনর্মিলনে’র হাওয়া! ইতিমধ্যেই দু’দশক পর ফের একজোট থ্যাকারে পরিবার। একত্রে বৃহন্মুম্বই কর্পোরেশনের (বিএমসি) নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা করেছে উদ্ধব ও রাজ থ্যাকারের দল। এবার এনসিপি তথা পাওয়ার পরিবার থেকেও সংযুক্তির ইঙ্গিত মিলছে। তারই মধ্যে বিএমসি নির্বাচনে এনসিপির অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী এককভাবে লড়াই করতে পারে বলে খবর। বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটের শরিক হলেও সেক্ষেত্রে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের এনসিপি পৃথকভাবে ৬০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে। 

    সূত্রের খবর, পাওয়ার পরিবারে ভাঙনের পূর্বেই ক্ষমতা বিভাজনের একটি ফর্মুলা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ফর্মুলা মেনেই বিবাদমান দুই শিবির কাছাকাছি আসতে পারে। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা? এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের হাতে থাকবে রাজ্য রাজনীতির রাশ। দিল্লিতে দলের জাতীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ থাকবে শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের হাতে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে শারদ পাওয়ারের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হবে। তারপরই তিনি সক্রিয় রাজনীতিকে বিদায় জানাবেন। ক্ষমতা বিভাজনের এই ফর্মুলা মেনেই বিবাদ কাটিয়ে ফের জোটবদ্ধ হবে এনসিপি তথা পাওয়ার পরিবার। আবার একটি সূত্র থেকে একথাও বলা হচ্ছে, পুনর্মিলনের পর অজিত পাওয়ারের পথে হেঁটেই বিজেপির সঙ্গে থাকবে এনসিপি। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের এনডিএ সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন অজিত। সেক্ষেত্রে বিরোধী জোট ছেড়ে কেন্দ্রে মন্ত্রী হতে পারেন শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে।

    পুনেতে পাওয়ার পরিবারের এই সম্ভাব্য পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তারই মধ্যে বিএমসি নির্বাচন নিয়ে জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এনসিপির অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী। দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুনীল তাতকরের সঙ্গে এবিষয়ে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আলোচনা হয়েছে নবাব মালিক, সানা মালিক ও জিশান সিদ্দিকির। বিজেপি-শিবসেনা জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিএমসি নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ে দল কতটা প্রস্তুত তা ঝলিয়ে নেওয়া ও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নির্ধারণের লক্ষ্যেই ওই বৈঠক হয়েছে। বিধায়ক সানা মালিক বলেন, আমরা প্রায় ৬০টি আসনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এবিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুনে ও পিম্পরি চিঁচওয়াড় কর্পোরেশনে নির্বাচনের কৌশল নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে এককভাবে লড়াই করলেও ভোটের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটের সঙ্গে থাকাতেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আবার দলের দুই গোষ্ঠীর সম্ভাব্য পুনর্মিলনের সম্ভাবনায় ক্ষুব্ধ শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীর একাধিক নেতা। তাঁরা অজিত পাওয়ারের রাস্তায় হেঁটে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে নারাজ। এজন্য এনসিপি (এসপি)-র পুনে সভাপতি তথা প্রাক্তন মেয়র প্রশান্ত জগতাপ দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)