• কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকেও ‘বুলডোজার’, ঘরছাড়া ৪০০ মুসলিম পরিবার
    বর্তমান | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • বেঙ্গালুরু: ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। কনকনে ঠান্ডা। ভয়ানক শব্দে ঘুম ভাঙল কর্ণাটকের কোগিলুর ফকির কলোনি এবং ওয়াসিম অঞ্চলের বাসিন্দাদের। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখলেন চারপাশে ধ্বংসস্তূপ। এলাকা ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাণ্ডব চালাচ্ছে বুলডোজার। অসহায়ের মতো চোখের সামনে নিজেদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে যেতে দেখলেন কয়েকশো সাধারণ মানুষ। শীতের ভোরে তাঁদের ঠাই হল রাস্তায়। 

    বুলডোজার দিয়ে অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া, যোগীরাজ্যে সাধারণ ঘটনা। অনেকসময় সেখানকার অপরাধীদের বাড়িও এইভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার খবর শোনা যায়। এবার সেই বুলডোজার রাজের সাক্ষী থাকল কর্ণাটক। গত ২২ ডিসেম্বর ভোররাতে বেঙ্গালুরুর কাছে  ফকির কলোনি এবং ওয়াসিম অঞ্চলে বুলডোজার অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা এলাকা। জানা গিয়েছে, অন্তত ২০০টিরও বেশি ঝুপড়ি ভাঙা হয়েছে। তার জেরে ঘরছাড়া হয়েছে অন্তত ৪০০ পরিবার। এদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম। ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কর্ণাটকের শাসকদল কংগ্রেস। প্রশাসনের দাবি, অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে ওই এলাকায় বসতি গড়া হয়েছিল। তাই এলাকা খালি করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনা নোটিশে এমন উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। শীতের দিনে রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে। কেউ কেউ এমন দাবিও করেছে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এখানেই রয়েছেন তাঁরা। দাবি, ভোটার-আধার সহ যাবতীয় পরিচয়পত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। যদিও এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। ঘটনার দিন অশান্তি রুখতে অন্তত ১৫০জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এলাকায়। তবে স্থানীয়দের একাংশ কর্ণাটকের রাজস্বমন্ত্রী কৃষ্ণ গৌড়ার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে দলিত সংগ্রাম সমিতির মতো বেশ কয়েকটি সংগঠন। 

    কর্ণাটকের এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী রাজ্য কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। এক্ষ হ্যান্ডলে তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারও এখন সংঘের সংখ্যালঘু-বিরোধী রাজনীতিকে মান্যতা দিচ্ছে।’ কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার পালটা বলেছেন, ‘আমরা বুলডোজারে নীতিতে বিশ্বাসী নই। ওখানকার বাসিন্দাদের নতুন জায়গায় স্থানান্তরের সুযোগ দিয়েছি।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)