শুনানি কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূলের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা আসানসোলে
বর্তমান | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শনিবার আসানসোলে এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই উত্তেজনা তুঙ্গে উঠল। আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার মণিমালা গার্লস হাইস্কুলের সামনে নিয়ম ভেঙে বিজেপির হেল্প ডেক্স করায় উত্তেজনা ছড়ায়। দফায় দফায় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মারধর করার অভিযোগ তুলে জেলাশাসক, মহকুমা শাসকের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এরপর বিজেপি নেতা-কর্মীরা শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়লে পাল্টা বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ওই কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রথম পর্যায়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটারকে। সকাল থেকেই আসানসোল, দুর্গাপুরের শুনানি কেন্দ্রগুলিতে লম্বা লাইন ছিল। কেউ শিশু কোলে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে এসেছেন। কেউ হাঁটুর ব্যথায় নুয়ে পড়েও বৃদ্ধ বয়সে প্রমাণ দিতে এসেছেন তিনি এদেশের বৈধ নাগরিক। এনিয়ে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। শুনানি কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেক্স খোলে বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, তৃণমূল টেবিল চেয়ার উল্টে দিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে। এরপর শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত হন আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর সামনেও বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এবিষয়ে মহকুমা শাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ রয়েছে কোনও শুনানি কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেক্স, ক্যাম্প করা যাবে না। জেলাশাসক শুনানি কেন্দ্রে ঢুকলে তাঁর পিছু পিছু বিজেপি নেতা-কর্মীরা ঢুকে পড়ে ক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরপরই বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থকও শুনানি কেন্দ্রের ঢুকে পড়ে। শুরু হয় স্লোগান, পাল্টা স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের হুশিয়ারি দেন জেলাশাসক। স্কুল চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বসে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের তুলে দেওয়া হয়।
আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করেন। জেলা প্রশাসনের কড়া মনোভাব দেখানোয় দু’পক্ষই শুনানি কেন্দ্র ছাড়ে। তারপর শুনানি প্রক্রিয়ার খোঁজখবর নেন জেলাশাসক। সেখানে শুনানিতে আসা ভোটারদের হয়রানি কমাতে একাধিক পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শুনানি কেন্দ্রের সামনে কোন ক্যাম্প করা যাবে না। শুধুমাত্র যাঁরা নোটিশ পেয়েছেন তাঁরাই শুনানি কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন। এদিন শুনানি কেন্দ্রের হাজির হয়েছিলেন বৃদ্ধা মৌসুমি সিনহা। তিনি বলেন, এই বয়সে আর হয়রানি ভালো লাগে না। শুনানিতে ডাক পাওয়া সোনি পাশোয়ন বলেন, আমার বাবা ব্যবসায়ী। বিভিন্ন জায়গায় থেকে ব্যবসা করেছেন। ২০০২ সালে তালিকায় তাঁদের নাম খুঁজে পায়নি। তাই হাজির হতে হয়েছে। এক অবাঙালি প্রৌঢ় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় আমার স্ত্রীর রাজস্থানে ভোটার কার্ড ছিল। তাই এই হয়রানি। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস রায় বলেন, তৃণমূল দুষ্কৃতীদের মারে আমাদের দু’জন কর্মী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তৃণমূল ব্লক সভাপতি অনির্বাণ দাস বলেন, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। এসআইআর করে বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।