সংবাদদাতা, মানকর: শনিবার দুপুরে কাঁকসার বাঁশকোপা টোলপ্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লরির পিছনে চারচাকা গাড়ির ধাক্কায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম গৌতম জানা(৪৭) ও রামনিবাস রায় (৬০)। গৌতমবাবু কলকাতার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা। গাড়িচালক রামনিবাসবাবুর বাড়ি কলকাতার কসবার প্রান্তিক পল্লিতে। দুর্ঘটনার পরই কাঁকসা থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই দুর্ঘটনায় সন্দীপ চক্রবর্তী নামে একজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর বাড়ি নদীয়া জেলার কল্যাণী রথতলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল চারচাকার একটি ইলেক্ট্রিক গাড়ি। কাঁকসার বাঁশকোপা টোলপ্লাজা ঢোকার মুখে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। গাড়ির সামনে বসেছিলেন গৌতমবাবু। গাড়ি চালাচ্ছিলেন রামনিবাসবাবু। পিছনের আসনে বসেছিলেন সন্দীপবাবু। দুর্ঘটনাস্থলেই গৌতমবাবু ও রামনিবাসবাবুর মৃত্যু হয়। গাড়ি থেকে তাঁদের উদ্ধার করতে বেগও পেতে হয় পুলিশকে। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় গাড়ির দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। পিছনে বসে থাকা সন্দীপবাবুকে গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দা অখিল রজক বলেন, চারচাকা গাড়িটি একটি দাঁড়িয়ে থাকা লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। তা দেখে উদ্ধার কাজে হাত লাগাই।
দুর্ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, লরিটি কেন ওখানে দাঁড়িয়েছিল। ওখানে কোনও ট্রাক স্ট্যান্ড নেই। তাঁর অভিযোগ, বাঁশকোপা থেকে পানাগড়ের রাস্তার দু’দিকেই অবৈধভাবে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। সার দিয়ে ট্রাকগুলি দাঁড়িয়ে থাকায় ছোট গাড়ি ও বাইক চালকদের সমস্যা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বহুবার সচেতন করা হলেও, গাড়ি চালকদের একাংশ তা পরোয়া করে না। এদিন দুর্ঘটনার পর দুর্গাপুরগামী রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনার পর থেকে লরির চালক পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।