• শীতলতম নিউ ইয়ার ইভ কলকাতায়, ঘন কুয়াশা উত্তরবঙ্গে
    এই সময় | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: বছর শেষে সুখবরের সঙ্গেই নতুন বছরের জন্য ‘দুঃসংবাদ’! ২০২৫–এর অন্তিম মুহূর্তে মরশুমের শীতলতম দিন পেল কলকাতা। শুধু তাই নয়, অন্তত গত এক দশকের মধ্যেও এটা মহানগরীর শীতলতম ৩১ ডিসেম্বর। কলকাতার পাশাপাশি গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই কনকনে শীতের আমেজে কাঁপতে হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির প্রায় সর্বত্রই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিঙ্গল ডিজিটে নেমে এসেছে। মাঝ পৌষের শীতে কাবু সকলেই। বর্ষশেষে এটা যদি সুখবর হয়, তা হলে নতুন বছরের অন্তত প্রথম ক’টা দিনের জন্য এই ঠান্ডার আমেজে কাঁটা বিছোতে চলেছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী দু’–তিন দিনে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অন্তত ২–৩ ডিগ্রি চড়তে পারে। তার পরের চার দিনে এই তাপমাত্রা খানিকটা থিতু হবে। অর্থাৎ এই কনকনে শীতের আমেজ আপাতত কিছুটা কমতে চলেছে বলেই মনে করছেন আবহবিদরা।

    বুধবার কলকাতায় আলিপুর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম। শুধু তা–ই নয়, মঙ্গলবারের তুলনায় এই তাপমাত্রা প্রায় ১.৬ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কমে পৌঁছয় ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সে দিক থেকে অল্পের জন্য শীতল দিন বা ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতি পেল না মহানগরী। কারণ, সমতলে কোনও এলাকায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রির নীচে নেমে গেলে তাকে ‘কোল্ড ডে’ বলেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতায় শীতলতম বর্ষশেষের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১০ বছরে অন্তত এই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এতটা কমেনি। এর আগে ২০১৯–এ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১–এর কোঠায় ঢুকেছিল। সে দিন এই তাপমাত্রা ছিল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দু’টি বছরেই, অর্থাৎ ২০২৩ ও ২০২৪–এ এই তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রির ঘরে। এ দিন দক্ষিণবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সবচেয়ে কম ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতনে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও অনেকগুলি জেলাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭–৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। একদিকে গত কয়েকদিন ধরে দিনের বেশির ভাগ সময়টা ঘন কুয়াশার চাদরের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেমন একটা বাড়তে পারেনি, তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত দু’দিনই স্বাভাবিকের থেকে ৬–৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়।

    এ দিনও সকালের দিকে কুয়াশা ছিল, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা সরতেই কনকনে উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপুনি টের পাওয়া গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, যদি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার একটা গ্রাফ করা হয়, তাতে দেখা যাবে শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং (৪ ডিগ্রি) ছাড়া প্রথম দশে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে শুধুমাত্র রয়েছে কালিম্পং (৮.৩)। বাকি প্রতিটি জায়গাই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি নিজেদের দখলে রেখেছে। আবহবিদরা বলছেন, কোভিডের বছরে অর্থাৎ ২০২০–তে যে সময়ে লকডাউন ইত্যাদির জন্য পরিবেশ দূষণ অনেকটা কমে গিয়েছিল। তারপরেও সে বছর ৩১ ডিসেম্বর এত কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হয়নি।

    তবে এই পারদ পতনের গ্রাফে খুব শিগগিরই বদল আসতে চলেছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। দিল্লির মৌসম ভবন জানাচ্ছে, উত্তর পাকিস্তান ও সংলগ্ন আফগানিস্তানের উপরে একটি শক্তিশালী পশ্চিমি ঝঞ্ঝা রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা ও সংলগ্ন এলাকার উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর ও উত্তর–পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে আবহাওয়ার বদল হয়েছে। যেমন— জম্মু–কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে আজ, বৃহস্পতিবার বৃষ্টিরও পূর্বাভাস রয়েছে। এই সবের জেরে ওই জায়গাগুলি থেকে কনকনে ঠান্ডা উত্তুরে হাওয়ার গতি কিছুটা রুদ্ধ হতে পারে।

    মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, আগামী দু’–তিন দিনে উত্তর–পশ্চিম ও মধ্য ভারতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। তারই ফলশ্রুতিতে পারদ খানিকটা চড়বে পূর্ব ভারতেও। এর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গেই আগামী কয়েকদিন সকালের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট চলবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী তিন দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় খুব একটা হেরফের হবে না। তবে আগামী কয়েকদিন দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা আছে। তারপরে তাপমাত্রা কিছুটা নামবে বলে মনে করছে হাওয়া অফিস। তবে এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝাটি কেটে গেলে পারদ আবার নামবে কি না, সে দিকে নজর রাখছেন আবহবিদরা।

  • Link to this news (এই সময়)