• চলন্ত গাড়িতেই গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ৩ ঘণ্টা নিগ্রহের পর ছুড়ে ফেলা হল রাস্তায়
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • গুরুগ্রাম: বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ঘন কুয়াশা। শীতের রাত। শুনসান রাস্তায় বাড়ি ফেরার গাড়ি পাচ্ছিলেন না গৃহবধূ। শেষমেশ একটি ভ্যানে লিফ্ট নেন। আর সেটাই কাল হল। চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ, সোমবার রাতে প্রায় ঘণ্টা তিনেক গাড়িতে আটকে রেখে তাঁর উপর নির্মম অত্যাচার চালাল দু’জন। তখন ভোররাত। নির্যাতিতাকে গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। অসম্ভব যন্ত্রণায় মাঝরাস্তায় আর্তনাদ করতে থাকেন নির্যাতিতা। শেষমেশ অনেক কষ্টে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মুখে ১২টি সেলাই পড়েছে। বিজেপি শাসিত হরিয়ানার এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই গাড়ির ছবি ধরা পড়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই ঘটনা ১৩ বছর আগের এমনই এক ডিসেম্বরের রাতে দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিয়েছে। এরইমধ্যে হরিয়ানায় মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং বুধবার বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বেহাল দশা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। রাজ্যে অপরাধীরা বুল ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজেপি শাসনে মহিলাদের নিরাপত্তা নেই। 

    জানা গিয়েছে, মায়ের সঙ্গে ঝামেলার জেরে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ওই গৃহবধূ। বোনকে বলেছিলেন, বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছেন। দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবেন। কিন্তু বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরতে দেরি হয়ে যায়। মাঝরাতে কোনও গাড়ি না পেয়ে শেষমেশ একটি ভ্যানে লিফ্ট নেন। গাড়ির ভিতরে দু’জন ছিলেন। অভিযোগ, গৃহবধূর বাড়ির রাস্তার বদলে আচমকা গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের দিকে এগিয়ে যায় গাড়ি। এরপর চলন্ত গাড়িতে তিন ঘণ্টা ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দু’জন। ভোর ৩টে। এসজিএম নগরের রাজাচক এলাকার এক হোটেলের সামনে তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

    কোনওরকমে ফোনে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই তরুণী। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মহিলার তিন সন্তান। স্বামীর সঙ্গে ঝামেলার জেরে বর্তমানে আলাদা থাকেন।
  • Link to this news (বর্তমান)