নয়া জঙ্গি সংগঠন আইএমকে জাল ছড়িয়েছে বঙ্গেও, ধৃতদের জেরা করে জানল অসম এসটিএফ
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: জেএমবির সহকারী সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র (আইএমকে) জাল ছড়িয়েছে বাংলায়। রাজ্যের চারটি জেলায় তারা স্লিপার সেল খুলে জঙ্গি কাজকর্ম শুরু করেছে। তারা যোগাযোগ রাখছে অসম ও বাংলাদেশে আইএমকে’র শীর্ষ মাথাদের সঙ্গে। এই সংগঠনের ১১ জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জেরা করে এই তথ্য পেয়েছে অসম এসটিএফ। এমনকী আনসারুল্লা বাংলা টিমের মতোই এই রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা আইএমকে জঙ্গিরা এখানকার ঠিকানায় ভুয়ো পরিচয় পত্র তৈরি করে ভারতীয় নাগরিক সাজছে বলে খবর।
অসম ও ত্রিপুরা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসাররা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে আইএমকের ১১ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেন। এর মধ্যে অসমের বাকসা, চিরাং, বরপেটা এবং দরং থেকে ১০ জন ধরা পড়ে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অসম এসটিএফ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, ২০১৮ সালে তৈরি হওয়ায় আইএমকের সদস্য এরা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন জেএমবি জঙ্গি জুয়েল মাহমুদ ওরফে ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লা ওরফে সোহেল। বাংলাদেশে থাকা এই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উত্তর পূর্ব ও পূর্ব ভারতে সংগঠনের বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।
ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ শুরু করেছিল। উত্তর পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য ছাড়া তারা ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। সেখানে তারা নিয়মিত যাতায়াত করছিল। বসে যাওয়া জেএমবি জঙ্গিরা ছিল তাদের টার্গেট। সেজন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ‘পূর্ব আকাশ’ নামে একটি আলাদা গ্রুপ খোলা হয়। সেখানে মগজ ধোলাই করে এই রাজ্যের একাধিক তরুণকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। পুরনো জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছিল। ‘দাওয়াত’এ অংশ নিতে অসমে এসে ধরা পড়া জঙ্গিদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তার আগে গত ২৮ ডিসেম্বর বরপেটায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল অসম ও বাংলার আইএমকে’র কয়েকজন মাথা। এসটিএফ জেনেছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা ৩০টির বেশি স্লিপার সেল তৈরি করে ফেলেছে। সীমান্ত লাগোয়া অনুমোদনহীন কয়েকটি মাদ্রাসাকে নিজেদের ঘাঁটি বানানোর তোড়জোড় শুরু করেছে আইএমকে। অসম এসটিএফের কাছে খবর, এই রাজ্যে আইএমকের অন্তত ১০ জন জঙ্গি রয়েছে, যারা বাংলাদেশে এই সংগঠনের মাথাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং অর্থ সাহায্য পাচ্ছে। এই নেতারাই এখানে স্লিপার সেলগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন অসম ও পশ্চিমবঙ্গে নেটওয়ার্ক কারা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের কেউ প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশে গিয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।