• ভোটার লিস্টে চুরি করেও বঙ্গে মোদি-শাহ জিততে পারবেন না, চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, ‘আঙুল তুলবেন না’, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: একদিকে নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে মোদি-শাহ। বছরের শেষদিনে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ইডি, সিবিআই, কমিশন, যত চেষ্টাই করুক। বাংলায় জিতবে তৃণমূলই। কারণ, বাংলার মানুষ বিজেপির কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করে দেয়নি। এসআইআরের নামে যে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে, বাংলার মানুষ বিজেপিকে তার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে। অভিষেক জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না। আইনি পথেও লড়াই করবে। 

    এদিন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাঁধল বিবাদ। তৃণমূলের তোলা অভিযোগ সত্যি নয়। কমিশনের কর্মীদের তৃণমূল হেনস্তা করছে বলেও আঙুল তোলেন জ্ঞানেশ কুমার। ডান হাতের তর্জনী উঁচিয়ে তৃণমূলকে চুপ করানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাল্টা আক্রমণাত্বক হন অভিষেকও। সরাসরি বললেন, আঙুল তুলে কথা বলবেন না। আমরা কমিশনের অধস্তন কর্মচারী নয়। জনতার ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আপনি সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে মনোনীত। ফলে ইলেকটেড আর সিলেকটেডের মধ্যে ফারাক বুঝতে শিখুন। কার্যত বৈঠক পর্যবসিত হল অভিষেক বনাম জ্ঞানেশ কুমারে। 

    অভিষেকের অভিযোগ, কমিশনকে দিয়ে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনে (এসআইআর)র মাধ্যমে ভোটার তালিকায় চুরি করে নির্বাচন জিততে চাইছে বিজেপি। ইভিএম মেশিনে নয়, ভোট চুরি হচ্ছে দিল্লি থেকে। ভোটার তালিকায়।  কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, আরজেডি এই চুরি ধরতে পারলে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার জিতত। তৃণমূলের দাবি, কমিশনের চুরি হাতেনাতে ধরে ফেলেছে তারা। তারই ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে বুধবার প্রশ্নের মুখে ফেলল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। 

    কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ করে তৃণমূলের দশ সদস্যের প্রতিনিধিদল। অভিষেকের নেতৃত্বাধীন দলে ছিলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মানসরঞ্জন ভুঁইঞা, প্রদীপ মজুমদার। পাশাপাশি ছয় সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা ঠাকুর, সাকেত গোখলে, নাদিমুল হক এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আড়াই ঘণ্টা চলল কমিশনের সঙ্গে মুখোমুখি টক্কর। তৃণমূলের দাবি কমিশন মানতে রাজি নয়। আবার কমিশনের বক্তব্যও অযৌক্তিক বলেই মন্তব্য তৃণমূলের। উত্তপ্ত হল বৈঠক। 

    অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, নামের বানান ভুল, ঠিকানায় সামান্য গলদ, বাবা-মার বয়সের সঙ্গে অসঙ্গতির মতো যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেনসিসে’র নামে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে কমিশন শুনানির জন্য ডাকছে, সেখানে কেন রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টস (বিএলএ-২) থাকবে না? ইউনিউমারেশন ফর্ম বিলির সময় তো ছিল? কী লুকোতে চাইছেন? কেনই বা ওই লজিক্যাল ডিসক্রেপেনসিসের তালিকা কমিশন প্রকাশ করছে না? বাংলায় যে বেঘোরে বিএলও মারা গেল, তার দায় কার? তৃণমূলের দাবি, তাদের তোলা ১১ টি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেনি কমিশন। যদিও কমিশনের পালটা দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলায় কমিশনের কর্মীদের সান্মানিক মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের কর্মীদের তৃণমূল মানসিকভাবে হেনস্তা করছে 

    ব঩লেই প্রতিনিধিদলকে সতর্ক করা হয়েছে। হুমকির সুরে এও জানিয়েছে, কমিশনের কোনও কর্মীর কিছু হলে ছেড়ে কথা বলব না। অভিষেকও ছুঁড়লেন চ্যালেঞ্জ। বললেন, সাহস থাকলে বৈঠকের ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করুক কমিশন। মাটিতে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: পিটিআই
  • Link to this news (বর্তমান)