• ভারত-পাক যুদ্ধ থামানোর দাবি এবার চীনেরও, অস্বস্তিতে মোদি
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এতদিন আমেরিকার দাবি ছিল, ভারত-পাক যুদ্ধ তারাই থামিয়েছে। কিন্তু এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প আর একা থাকলেন না। কারণ, চীনও জানিয়ে দিল, এই দুই পড়শি দেশের যুদ্ধবিরতির ‘কারিগর’ আসলে তারাই! আর এই আকস্মিক বিবৃতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর ‘বন্ধুত্ব’পূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে সব ইস্যুতে চুপ থাকা নিয়ে লাগাতার বিরোধী তোপের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এবার ‘নতুন বন্ধু’ চীনও অস্বস্তি বাড়াল তাঁর। বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য চীনের দাবি উড়িয়ে বলেছে, ভারত-পাক দুই দেশের সেনা আধিকারিকদের মধ্যে কথা হয়েছে। কেউ মধ্যস্থতা করেনি। তাতে বিতর্কের আগুন স্তিমিত হচ্ছে না।

    ২০২৫ শেষ। কূটনীতি, বিদেশনীতি এবং যুদ্ধনীতির যে রহস্য ভারতবাসীর কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছে, সেটি হল—১০ মে বিকেলে আচমকা ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ কেন এবং কীভাবে বন্ধ হল? যুদ্ধবিরতির প্রকৃত কারণ কী? নানাবিধ সমীকরণ ও তত্ত্ব মাথাচাড়া দিয়েছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কমপক্ষে ৫০ বার দাবি করেছেন, সংঘাত ও সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব তাঁরই। ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক কিন্তু একবারও ট্রাম্পের নামোচ্চারণ করেনি। শুধু বলেছে, ‘কোনও পক্ষের কথায় নয়। ভারতের লাগাতার আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে, তাই থেমেছে সংঘর্ষ।’ কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ করতে বলল, আর ভারত সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নিল? কেন? বছরের শেষ লগ্নে এসে বুধবার অবিকল ট্রাম্পের ধাঁচে এবার সদ্য বন্ধুত্বের হাত শক্ত করা চীনের আচমকা দাবি, ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী তারাই। খোদ চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ‘২০২৫ সালে আমরা একঝাঁক সংঘাতের মধ্য‌স্থতা করতে সক্ষম হয়েছি। তার মধ্যে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষও।’ এছাড়া উত্তর মায়ানমারের অস্থিরতা, ইরানের পরমাণু হুমকি,প্যালেস্তাইন বনাম ইজরায়েল, কম্বোডিয়া বনাম থাইল্যান্ডের সংঘাত সমাপ্তিতে চীনের মধ্যস্থতার যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তাহলে কি ভারত ও পাকিস্তানের ওই যুদ্ধ থামিয়েছে দুই সুপারপাওয়ার? আমেরিকা ও চীন? যা স্বাভাবিকভাবে ভারতকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বর্ষশেষে চীনের থেকে এই ধাক্কা যথেষ্ট অপ্রত্যাশিত। কারণ, আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের হুমকি হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে পালটা অবস্থান নিতে চলতি বছরেই চীন, রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে অক্ষ নির্মাণের চিত্র প্রকট হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মঞ্চে। আমেরিকাও এই সম্ভাবনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হয়ে ‘অক্ষ’ ভাঙতে মরিয়া। কয়েকদিন আগে তাই ভারতের সঙ্গে চীনের  বিশ্বাস ও আস্থা-সম্পর্ক ভাঙার লক্ষ্যে পেন্টাগন সেনেটকে রিপোর্ট দিয়েছে, ভারতের অরুণাচল দখল করতে মরিয়া চীন। চীন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই রিপোর্টকে নস্যাৎ করে বলেছিল, আমেরিকার এই রিপোর্ট অসত্য। মার্কিন সরকার আসলে চাইছে, দিল্লির সঙ্গে বেজিংয়ের সম্পর্ক খারাপ হোক। তাই এই আজগুবি রিপোর্ট। কিন্তু সেই চীন নতুন বছরের প্রাক্কালে এভাবে ভারতকে বিব্রত করল কেন? স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কংগ্রেস ঩নেতা রাজ্যসভার এমপি জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। চীনের যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ব্যবহার করেছে। মিসাইলও। সেই চীনের মধ্যস্থতা ভারত মেনে নিল? চীন কি সত্যি বলছে? সেটা ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানাক!’ স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬ সাল কি আবার নতুন কোনও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আভাস দেবে? 
  • Link to this news (বর্তমান)