চল্লিশ বছর সীমান্তের সুরক্ষায় নিযুক্ত থেকেও ভারতীয় প্রমাণে শুনানিতে বিএসএফ জওয়ান
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ৪০ বছর ধরে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিযুক্ত। জীবন বাজি রেখে দিনের পর দিন সীমান্ত প্রহরায় কর্তব্যে অটুট। ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে সেই বিএসএফ জওয়ানকেই দাঁড়াতে হল এসআইআর শুনানির লাইনে! এমন দিনও যে দেখতে হবে ভাবতে পারেননি জলপাইগুড়ি শহরের নিউ টাউনপাড়ার বাসিন্দা বাঙালি বিএসএফ ইনসপেক্টর বিধুভূষণ রায়। বললেন, আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চাকরি করি। সবচেয়ে বড় কথা, ৪০ বছর ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে রয়েছি। জম্মু-কাশ্মীর থেকে রাজস্থান, পাঞ্জাব, নাগাল্যান্ড, অসম বিভিন্ন রাজ্যে সীমান্ত প্রহরায় ডিউটি করেছি বছরের পর বছর। সেই আমাকেও এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হল! এভাবে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে, ভাবতে পারিনি। বিষয়টি ভালো লাগল না। কিছুটা হলেও অসম্মানিত বোধ করলাম।
বিধুভূষণ রায় নিউ টাউনপাড়ার ৬৭ নম্বর বুথের ভোটার। তাঁর দাবি, চাকরিতে কখনও দেশের এই প্রান্তের সীমান্তে, কখনও অন্য প্রান্তের সীমান্তে ডিউটি করতে হয়েছে। ভোট দিতে আসতে পারিনি। অথচ এখন এসআইআরে বলা হচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে আমার নাম ম্যাপিং হচ্ছে না। সেই কারণে নোটিস পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
আগামী বছর নভেম্বরে চাকরিতে অবসর নেবেন এই বিএসএফ অফিসার। সেই কারণে টার্মিনাল পোস্টিং হিসেবে বাড়ির কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে কর্তব্যরত বিএসএফের জলপাইগুড়ি রানিনগর সেক্টরে। এদিন শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর আক্ষেপ, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার কাজে জীবনের চার দশক অতিবাহিত করলাম। শেষে এসে আমাকেও যদি নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নোটিস দেওয়া হয়, তাতে তো কিছুটা খারাপ লাগার কথা। নিজের নথিপত্র তুলে ধরার পাশাপাশি শুনানি কেন্দ্রে এনিয়ে আক্ষেপ জানান ওই আধিকারিক।
জলপাইগুড়ি সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের বিনয় রায় বলেন, বিএসএফ জওয়ানরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষার কাজে যুক্ত। সেই কাজ ছেড়ে তাদের এসআইআর শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এটা নিসন্দেহে অসম্মানজনক। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এসআইআর হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।