• শিলিগুড়ি-দার্জিলিংয়ের দূরত্ব কমে গেল, অবশেষে নতুন বছরে খুলল রোহিণীর রাস্তা
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে তিনমাসের মাথায় আজ, বৃহস্পতিবার খুলছে পাহাড়গামী ধস বিধ্বস্ত রোহিণী রোড। শীতকালীন পর্যটনের মরশুমে এনিয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের বক্তব্য, এতে শিলিগুড়ির সঙ্গে দার্জিলিং পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ১০ কিমি কমল। সেই সঙ্গে সমতল ও পাহাড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী অন্যান্য রাস্তাতেও যানজট নিয়ন্ত্রণ হবে। পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। 

    জিটিএ’র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা জানান, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি রাস্তাটি পরিদর্শনও করেছেন। জিটিএ’র পূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। আজ, রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

    গত ৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ, নদী ও ঝোরার জলোচ্ছ্বাস এবং ধসের জেরে তছনছ হয় দার্জিলিং পাহাড়ের একাংশ। রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারমধ্যে রোহিণী রোড বা সুবাস ঘিসিং মার্গ অন্যতম। রাস্তাটির একপাশে পাহাড়, আরএক পাশে গভীর খাদ। বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের থাবায় রাস্তার বিশাল অংশ খাদের গর্ভে চাপা পড়ে। সেই থেকে বন্ধ ছিল রাস্তাটি। 

    জিটিএ’র পূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিমূলবাড়ির অতিক্রম করার পরই রাস্তাটির প্রায় ৫০ মিটার অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। পাহাড় কেটে সেখানে নতুন রাস্তা করা হয়েছে। খাদের দিকের অংশ বালির বস্তা, বোল্ডার দিয়ে বাঁধাই করা হয়েছে। আজ নতুন বছরের প্রথমদিনই রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। বিপর্যয়ের পর প্রথম দিকে রাস্তাটিতে মেরামতির কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। পাহাড় থেকে রাস্তায় পাথর পড়ছিল। বিপর্যয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাস্তা তৈরির কাজে হাত দেওয়া হয়। 

    শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলির মধ্যে রোহিণী রোড অন্যতম। এটি ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, মিরিক রোড ও পাঙ্খাবাড়ি রোডের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। শিলিগুড়ি শহর থেকে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে দার্জিলিংয়ের দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিমি। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে রোহিণী রোড ধরে কার্শিয়াং হয়ে দার্জিলিংয়ের দূরত্ব প্রায় ৬৭ কিমি। অর্থাৎ শিলিগুড়ি ও পাহাড়ের দূরত্ব ১০-১২ কিমি কমবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সংশ্লিষ্ট রুট পর্যটকদের বেশি পছন্দ। 

    ট্যুর অপারেটররা বলেন, শিলিগুড়ি থেকে সুকনা, শিমূলবাড়ি কিংবা মাটিগাড়ার হিমূল রোড দিয়ে রোহিণী রোডের মাধ্যমে পাহাড়-সমতলের যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব। তাই শীতের পর্যটন মরশুমে কার্শিয়াং, দার্জিলিং, জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরি, পুলবাজার প্রভৃতি এলাকায় পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। নিত্যযাত্রীরাও সমতল থেকে কম সময়ে শেয়ার ট্যাক্সিতে চেপে পাহাড়ে যাতায়াত করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের উপকার হবে। 

    প্রসঙ্গত, বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া ব্রিজের বিকল্প সেতু গত অক্টোবর মাসে চালু করা হয়। সেই সময় থেকে শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। এবার রোহিণী রোড চালু হল। এখন সমতলের সঙ্গে দার্জিলিং পাহাড়ে যাতায়াতের চারটি রাস্তা একসঙ্গে চালু থাকবে। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রত্যাশা, এতে শৈলশহরের যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ হবে। • ফাইল চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)