নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এসআইআরের শুনানিতে এসে ভোটারদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ ও বয়স্ক ভোটাররা। এর প্রতিবাদে ধর্না ও বিক্ষোভ দেখাবে তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দেবে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতারা বলেন, প্রতিদিন জেলায় হাজারের বেশি মানুষ শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। শুনানিতে হাজিরার পরও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফের তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। নথিতে সামান্য ভুল থাকলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ঠিক হয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে ধর্নায় বসবেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অফিস কামাই ও ব্যবসা বন্ধ রেখে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। ২০০২ সালের লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে শুনানিতে ডাক পেয়েছেন।
এবিষয়ে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, এসআইআরের জন্য অনেক ভোটারকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেককে আবার নানা কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এর প্রতিবাদে আমরা ধর্নায় বসব। নির্বাচন কমিশন তথা বিজেপি সরকারের অনৈতিক কাজ মেনে নেওয়া যাবে না।
এদিন ডিএম অফিস চত্বরে শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাঙামাটি এলাকার বাসিন্দা অঞ্জলি রানা। তাঁর আট মাসের শিশুসন্তান রয়েছে। অঞ্জলিদেবী বলেন, আমাদের বাড়ির কাগজপত্র নেই। এত ঠান্ডার মধ্যে ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। কী হবে বুঝতে পারছি না। বিধায়ক সুজয়বাবুকে বিষয়টি জানিয়েছি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব বিএলএ-২ দের পাশাপাশি পুরসভা এলাকায় টাউন ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার ও ব্লক এলাকায় ব্লক ইলেক্টোরাল সুপারভাইজার রেখেছে। তাঁদের কাজের তদারকি করছেন বিধায়করা। কিন্তু, শুনানিতে বিএলএ-২ দের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
একজন তৃণমূল নেতা বলেন, আমাদের দলের প্রতিনিধি শুনানিতে না থাকায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিলে আমরা জানতেও পারব না। তৃণমূলের ক্যাম্পে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ আসছেন। তা দেখে বিজেপিও ক্যাম্প খুলেছে। একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে বিধায়করা রাস্তায় বসবেন।
জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল চাইছে, যেভাবে হোক এসআইআর প্রক্রিয়া ঠেকাতে। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।