• বর্ষবরণে পিকনিকে মাতোয়ারা জেলা তারাপীঠে পুজো দিতে পুণ্যার্থীর ঢল
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আজ, বৃহস্পতিবার ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন। এই দিনে মা তারার কাছে পুজো দিয়ে বছর শুরু করতে কনকনে শীত উপেক্ষা করে বুধবার থেকেই রাজ্য ও ভিনরাজ্যের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে তারাপীঠে। বর্ষবরণের আনন্দে ফাঁকা মাঠে চলছে পিকনিক। শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ মন্দিরে ভিড় কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা লজ ও হোটেল ব্যবসায়ীদের।

    তারা মায়ের বিশেষ পুজোর দিনগুলি ছাড়াও পয়লা জানুয়ারি প্রতি বছর এখানে ভিড় উপচে পড়ে। বুধবার সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছে। অধিকাংশ হোটেলে বহু রুম বুকিং রয়েছে। কথিত আছে, সবার গুরু বৃহস্পতি। আর বৃহস্পতির গুরু দেবী তারা। সেকারণে বছরের প্রথম দিন দেবীর কাছে পুজো দিতে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হবে বলে মনে করছেন সেবাইতরা। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, বৃহস্পতিবার এমনিতেই মন্দিরে ভিড় থাকে। তার উপর বছরের প্রথম দিন। মায়ের কাছে পুজো দিয়ে বছর শুরু করতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছে। আজ সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই পুজো দিতে হাজার-হাজার ভক্তের লাইন পড়ে যাবে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে আজ অধিক রাত পর্যন্ত মন্দির খুলে রাখা হবে।

    লজ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুনীল গিরি বলেন, পৌষমেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। সেকারণে পর্যটকরা তারাপীঠে আসছেন। অধিকাংশ হোটেলে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। অনেকে তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পর নিতাইয়ের জন্মভিটে বীরচন্দ্রপুরের একচক্রাধাম, নলাটেশ্বরী ও মুলুটি মায়ের দর্শন করে ফিরে আসছেন। সমস্ত মন্দিরে ভিড় বেড়েছে। এই দিনে পর্যটকের অনেকে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসেন। তাঁরা এদিন ব্যবসার নতুন খাতা মা তারার চরণে ছুঁইয়ে পুজো দেন। ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা থেকে আসা ব্যবসায়ী সূর্য যাদব বলেন, মা তারার কাছে পুজো দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। দেবীর কৃপায় ব্যবসা বেড়েছে। তাই প্রতি বছর প্রথমদিনে ব্যবসার খাতা নিয়ে মায়ের কাছে পুজো দিতে আসি। তবে মন্দির সংলগ্ন দ্বারকা নদকে সুন্দর করে সাজিয়ে বোটিং ও অন্যান্য মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এদিন দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই বাস রিজার্ভ করে তারাপীঠে এসেছেন। ফাঁকা মাঠে তাঁরা বনভোজনে মেতে উঠেছেন। বাঁকুড়ার বাসিন্দা অনন্ত সরকার বলেন, পিকনিক করতে এদিন সকালেই তারাপীঠে এসেছি। ৬০জন রয়েছি। বৃহস্পতিবার ভোরে মায়ের কাছে পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরব। টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, তারাপীঠের চিলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৫১পীঠের আদলে মন্দির গড়ে তোলা হবে। দ্বারকা নদে বোটিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে। 

    ভিড়ের মাঝে হাতসাফাইয়ের জন্য দুষ্কৃতীরা এইসময় তারাপীঠে আসে। ভিড়ের মাঝে পুণ্যার্থীদের গলা থেকে হার ছিনতাই ও পকেট থেকে মানিব্যাগ হাতিয়ে নেয় তারা। তাই পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মন্দিরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও পুলিশের টিম থাকবে। মন্দিরজুড়ে লাগানো সিসি ক্যামেরায় সর্বক্ষণ নজরদারি চালাবে পুলিশ। যানজট এড়াতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)