• প্রযুক্তিগত ত্রুটি, উদ্বেগ নিয়ে লাইনে বহু ভোটার, ভুল করে জেলায় আনম্যাপিং ৯ হাজার
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, চাপড়া: মহতপুর থেকে বুধবার চাপড়া ব্লক অফিসে হাজির হয়েছিলেন আলাই শেখ। সঙ্গে ৯০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে সরিফুল শেখ। ছেলেকে নিয়েই শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁকে। যদিও তাঁদের আসার কথা ছিলই না। আলাই শেখের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। বৈধ পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টও রয়েছে। তবু আলাই শেখ ও তাঁর বিশেষভাবে সক্ষম ছেলের নামেই ইস্যু হয়েছে শুনানির নোটিশ। তাই, আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা নিয়েই ছেলেকে সঙ্গে করে ব্লক অফিসে হাজিরা দিতে বাধ্য হন তিনি। কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়েই আলাই শেখ বলেন, ‘আমাদের পাসপোর্ট আছে। সব কাগজ ঠিক আছে। ২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও আমাকে আর আমার ছেলেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমার ছেলে ৯০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম। ওকে নিয়ে এখানে আসাটা কতটা কষ্টের, সেটা কেউ বুঝল না।’

    শুধু আলাই শেখ নয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার সত্ত্বেও সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক ভোটারের নামে নোটিশ ইস্যু হয়েছে। তা নিয়ে নদীয়া জেলাজুড়েই চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ ‘নো ম্যাপিং’ ব্যবস্থার কারণে জেলার প্রায় হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নামে ভুলবশত শুনানির নোটিশ ইস্যু হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা বহু মানুষকে অকারণে শুনানির লাইনে দাঁড় করানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই নদীয়া জেলায় প্রায় ৯ হাজার ভোটারের নাম ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় উঠে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার রয়েছেন চাকদহ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব এবং কল্যাণী বিধানসভা এলাকায়। নোটিশ হাতে পেয়ে বহু ভোটার শুনানির প্রথম দিন থেকেই নদীয়া জেলার বিভিন্ন ব্লক অফিসে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে প্রশাসনের দাবি। 

    কমিশন ২৭ ডিসেম্বর লিখিত নির্দেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, যেসব ভোটার শুধুমাত্র সিস্টেমগত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ‘আনম্যাপড’ তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শুনানির প্রয়োজন নেই। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়, অনলাইন ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুনানির নোটিশ তৈরি হলেও সেগুলি ভোটারদের কাছে পাঠানো হবে না। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছেই তা রাখা থাকবে। পরবর্তীতে জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা সমস্ত তথ্য যাচাই করে ইআরও বা এইআরও-র মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন।

    সেইমতো বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বুথ ভিত্তিক যাচাই শুরু করে। তাতেই দেখা যায় নদীয়া জেলাজুড়ে ৮ হাজার ৯০০ জনকে ভোটারের ম্যাপিং হওয়ার সত্ত্বেও নোটিশ ইস্যু হয়েছে। সেই তালিকাও প্রশাসনের তরফ থেকে কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। তবে কমিশনের এই অপরিকল্পিত ব্যবস্থা ভোটারদের একাংশ পুরো ঘটনাকে অযথা হয়রানি বলেই মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভোটার হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ করে শুনানির নোটিশ পাওয়া মানসিক চাপ ও ভয় তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসন একাংশ মনে করছেন এই সংখ্যাটা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। যার জন্য এবার প্রযুক্তিগত কারণে বাদ যাওয়া ভোটারদের খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমদেরকেও। এসআইআর প্রথম পর্বের কাজ শেষের পর জানা যায়, নদীয়া জেলায় মোট ২ লক্ষ ৮১ হাজার ভোটারকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়নি। সেটাই এখন এসে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৭২ হাজারে।  চাপড়া বিডিও অফিসে এস আই আর এর শুনানি। ছবি : কাজল বিশ্বাস
  • Link to this news (বর্তমান)