• বাঁকুড়া শহরে শুনানিতে ডাক অসুস্থ চিকিৎসককে, চলছে কেমো! কলকাতায় শুনানির আর্জি
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় ক্যানসার আক্রান্ত অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্তাকে এসআইআরের শুনানিতে ডেকে পাঠানোয় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাঁকুড়া শহরের ২নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজারের ওই চিকিৎসকের নাম মোহনচন্দ্র লাহা। ৭৬বছর বয়সী ওই চিকিৎসক এখন কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শয্যাশায়ী। তাঁর কেমোথেরাপি চলছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বুধবার শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কলকাতার কামারহাটিতে শুনানির ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হবে বলে তাঁরা প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

    মোহনবাবুর স্ত্রী তাঁকে পাশে নিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলে পাঠিয়েছেন। সেইসঙ্গে মোহনবাবুর পেনশন-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও কলকাতায় শুনানির ব্যবস্থা নিয়ে কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়নি।

    জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গুরুতর অসুস্থ বা বৃদ্ধদের শুনানি বাড়িতেই হবে। তবে তাঁকে নিজের বুথেই থাকতে হবে। অন্য কোথাও গিয়ে শুনানি করার কোনও নির্দেশিকা আমাদের কাছে নেই। ওই চিকিৎসকের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

    এঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে বাঁকুড়ার শুনানি কেন্দ্র এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হলের সামনে যুব তৃণমূল বিক্ষোভ দেখায়। সংগঠনের তরফে কমিশনের পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ওই চিকিৎসকের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তৃণমূল সব কিছুতেই রাজনীতির রং লাগিয়ে থাকে। বিজেপির সঙ্গে কমিশনের যোগসাজশের অভিযোগ ঠিক নয়।

    মোহনবাবুর স্ত্রী তন্দ্রা লাহা ফোনে বলেন, আমার স্বামী বাঁকুড়া সদরের সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছিলেন। অবসরের পর গত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। তিনবছর ধরে আমরা কলকাতায় ছেলের ফ্ল্যাটে থাকি। স্বামীর কেমো ও রেডিওথেরাপি সহ ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। ফুসফুস থেকে ক্যান্সার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় নার্ভের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। ফলে স্বামী ভালো করে হাঁটাচলা করতেও পারেন না। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বাঁকুড়ায় শুনানির জন্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কামারহাটির রথতলায় শুনানির ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। এবিষয়ে প্রশাসনের নানা মহলে মৌখিক আবেদন করেছি। প্রয়োজনে লিখিত আবেদন করা হবে।

    যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক রাজীব দে বলেন, এলাকার প্রবীণ ও জনপ্রিয় চিকিৎসককে এভাবে হয়রানি করার কোনও মানে হয় না। আমরা ভিডিওকলের মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের শুনানি করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আধিকারিকরা তাতে রাজি হননি। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন রাজ্যবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)