• উৎপাদন বন্ধ করিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে গ্রাম হাঁটাল জনতা
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ২০২৫ সালের শেষদিনটি মোটের সুখকর হল না জামুড়িয়াবাসীর কাছে। কনকনে ঠান্ডায় দূষণের চাদরে ঢাকা পড়ল জামুড়িয়ার প্রায় এগারোটি গ্রাম। যা নিয়ে প্রবল আন্দোলনের মুখে পড়ল কারখানা কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল থেকেই কয়েক বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা কারখানা ঘিরে ফেলেন বাসিন্দারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কারখানার গেটে তুমুল বিক্ষোভের পর আন্দোলনকারীদের চাপে কারখানার এসি ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন শীর্ষকর্তারা। তাঁদের গ্রামে নিয়ে গিয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি দেখান বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামুড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

    জামুড়িয়া থানা এলাকার মহিষাবুড়ি, চণ্ডীপুর, ইকড়া, স্বার্থকপুর, বালানপুর, শেখপুর, ধাসনা, বিজয়নগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পাশে গড়ে উঠেছিল বৃহৎ বেসরকারি ইস্পাত কারখানা। ক্রমেই তাঁর সম্প্রসারণ হয়েছে। অভিযোগ, পাল্লা দিয়ে এলাকায় বেড়েছে দূষণ। মঙ্গলবার রাত থেকেই কারখানার সবচেয়ে কাছে থাকা মহিষাবুড়ি, চণ্ডীপুরের বাসিন্দারা কারখানা থেকে প্রবল বেগে দূষিত পদার্থ বের হতে দেখেন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয়, আর দূষণ হবে না। 

    মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত কড়া ঠান্ডায় মানুষ গৃহবন্দি হয়েছিল। তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রবল শীত কাটিয়ে জামুড়িয়াবাসী বাইরে বেরিয়ে দেখে এক বিরল দৃশ্য— সবকিছু ঢেকে গিয়েছে দু’ ইঞ্চি পুরু ছাইয়ে। নিজেদের বাড়িই চিনতে পারছিলেন না বাসিন্দারা। মানুষ যেখানে পা দিচ্ছে, সেখান থেকেই ছাই উড়ছে। স্কুল, আইসিডিএস কেন্দ্র সব ছাইয়ে ঢাকা পড়েছে। প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। ১১টি গ্রামের মানুষ কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যবারের মতো পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করে। এদিন কিন্তু ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেট আটকে বিক্ষোভ চলে। কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। একপ্রকার বাধ্য হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি মতো গ্রামে পরিদর্শন করেন কারখানার শীর্ষকর্তারা। কারখানার কাছেই রয়েছে মামুদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। মঙ্গলবারই সেখানে একটি কিচেন শেডের উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার ছাইয়ে ঢাকা পড়ে সেটি। স্কুলের শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, পড়ুয়াদের খাবারে যে ছাই মিশবে না তাঁর দায়িত্ব কি কারখানা কর্তৃপক্ষ নেবে। কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেন এই ঘটনা ভবিষ্যতে হবে না।  এলাকার গৃহশিক্ষক বুদ্ধদেব রজক বলেন, মোবাইল থেকে বাতাসের গুণমানের নির্ণায়ক একিউআই সার্চ করে দেখি এলাকার একিউআই ৫১২। যা অতি বিপজ্জনক। কী ভাবে এখানকার মানুষ বাঁচবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, প্রশাসন সবাই নীরব। দিনের পর দিন আন্দোলন করেও কোনও কাজ হচ্ছে না। আসানসোলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিক সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আসানসোল পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্য সুব্রত অধিকারী বলেন, এলাকায় দূষণের সমস্যা আছে। আমরাও কারখানা কর্তৃপক্ষগুলিকে একাধিক বার সতর্ক করেছি।  জামুড়িয়ায় কারখানার দূষণের জেরে বিক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)