কৃষ্ণনগরের একাধিক যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের অবস্থা বেহাল
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার সদর শহর হওয়ায় বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে কৃষ্ণনগরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু, শহরে নেই সাধারণ মানুষের জন্য কোনও ভালো প্রতীক্ষালয়। যেগুলি আছে সেগুলির বেশিরভাগই বেহাল দশা। সংস্কারের অভাবে দিন দিন অবহেলিত হয়ে পড়ছে কৃষ্ণনগরের যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলি। যাত্রীদের এই আশ্রয়স্থলগুলি সংস্কার করা হচ্ছে না। ভাঙা বেঞ্চ, ভাঙা ছাদ, নোংরা পরিবেশ ও ছেঁড়া পোস্টারে ঢাকা দেওয়াল-সব মিলিয়ে যাত্রীদের বসার উপযুক্ত স্থান বলেই মনে হয় না।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেমন, ত্রিকোণ পার্ক, বেজিখালি মোড়, মিউনিসিপ্যালিটি মোড় সহ একাধিক জায়গায় প্রতীক্ষালয়ে দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। কোথাও ছাউনি ভাঙা, কোথাও আবার বেঞ্চই নেই, কোথাও আবার আবর্জনাতে ভর্তি। আরও দুঃখের বিষয়, এই প্রতীক্ষালয়গুলির দেওয়ালে থাকা মনীষীদের ছবিগুলিও অবহেলার শিকার। বেশিরভাগ যাত্রীদের অভিযোগ, শহর কিছু জায়গায় এসি প্রতীক্ষালয় আছে, সেগুলি মোটামুটি ভালো। কিন্তু, বেশিরভাগ মোড়ে যে প্রতীক্ষালয় আছে, সেগুলির অবস্থা খুব খারাপ। বসার জায়গা নেই। এর ফলে বাস ধরার সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকে আবার সাইকেল বাইক রেখে দেয়। মনীষীদের ছবি খুব অযত্ন অবস্থায় আছে। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা, যেমন বেলেডাঙা, ঘূর্ণি, রাধানগর ইত্যাদি অনেক এলাকাতেই কোনও প্রতীক্ষালয় চোখে পড়ে না। এনিয়ে কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করব।
অরূপ সরকার নামে এক বাস যাত্রী বলেন, আমি রোজই কর্মসূত্রে নবদ্বীপ যাতায়াত করি। পাড়া মোড় থেকে বাসে উঠি। যে যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি এখানে আছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বড় দৃষ্টিকটূ বিষয় হল ভাঙা প্রতীক্ষালয়ে মনীষীদের ছবি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতীক্ষালয়গুলির নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বেঞ্চ ও ছাউনি মেরামত এবং মনীষীদের ছবির সংরক্ষণে অবিলম্বে উদ্যোগ নিক পুর প্রশাসন। প্রতীক্ষালয় শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়, এটি শহরের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির নিদর্শন। -নিজস্ব চিত্র