লটপদায় জীর্ণ কালভার্ট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, মানবাজার: গত বর্ষার মরশুমে ভেঙে যায় বরাবাজারের লটপদা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একটি জীর্ণ কালভার্ট। সেই থেকে আজ অবধি ভেঙে যাওয়া ওই কালভার্ট সংস্কার করা হয়নি। তার উপর দিয়ে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এতেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ জমেছে স্থানীয়দের মনে। ওই জীর্ণ কালভার্ট দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুরুলিয়ার বরাবাজার থেকে লটপদা যাওয়ার রাস্তায় পড়ে একটি কালভার্ট। স্থানীয়দের কাছে সেটি হাড়িজোড় কালভার্ট নামে পরিচিত। গত চার থেকে পাঁচ দশক আগে ওই কালভার্ট তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু তারপর থেকে কোনও সংস্কার করা হয়নি। যার জেরে গত বর্ষার মরশুমে হঠাৎই কালভার্টের একাংশ ভেঙে গর্তের আকার নেয়। তখন থেকেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর দাবি ভেঙে পড়া কালভার্টের ওই রাস্তা দিয়েই ব্লক শহর বরাবাজারে যাতায়াত করে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টি গ্রামের মানুষজন। কালভার্টের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। বাধ্য হয়ে ওই জীর্ণ কালভার্টের উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, যখন কালভার্টের একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে সেই সময় ওই রাস্তায় প্রশাসন থেকে যান চলাচল নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ারও মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপর ওই কালভার্টের সামনে শুধু বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য বোর্ড টাঙানো হয়েছে। কিন্তু কোনও নজরদারি নেই। ফলে ওই জীর্ণ কালভার্টের উপর দিয়েই বড় গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। বাসিন্দারা জানায় বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে গেলে অনেকটা ঘুরপথ হয় তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই কালভার্টের উপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
লটপদা, হেরবনা, পুইজাঙ্গা সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গুরুত্ব সহকারে প্রশাসনের বিষয়টি দেখা দরকার। না হলে যেকোনওদিন ওই কালভার্ট ভেঙে পড়ে বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় লটপদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গদাধর মাহাতো বলেন, পঞ্চায়েতের অর্থে ওই ভেঙে যাওয়া কালভার্ট মেরামত বা তৈরি করা সম্ভব নয়। সেই কারণে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এনিয়ে বরাবাজারের বিডিও সমিতরঞ্জন মন্ডল বলেন, বিষয়টি জেলায় জানানো হয়েছে। তা নিয়ে আলোচনাও চলছে। ভেঙে পড়া জীর্ণ সেতু। -নিজস্ব চিত্র