শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: চণ্ডীপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতার ছেলে উত্তরপ্রদেশ থেকে ভুয়ো বিএড ডিগ্রি জমা করে স্কুল শিক্ষকের চাকরি করছেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ইন্টেলিজেন্স বিভাগের পক্ষ থেকে চণ্ডীপুর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। মিরাটের মুক্তকেশী মেমোরিয়াল বিএড কলেজ থেকে যে সার্টিফিকেটটি তিনি জমা করেছেন সেটি জাল বলে ভেরিফিকেশনে জেনেছে পুলিশ। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন সুদীপ্ত প্রধান। তিনি এই মুহূর্তে চণ্ডীপুরের একাত্তর হাইস্কুলের কর্মশিক্ষার শিক্ষক। তাঁর বাবা মঙ্গলেন্দু প্রধান সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য। বুধবার সিপিএমের জেলা কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি জানিয়েছেন, মঙ্গলেন্দুবাবু পার্টির জেলা কমিটির সদস্য। ২০১৬ সালে চণ্ডীপুর বিধানসভার সিপিএমের প্রার্থীও হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি দু’টি টার্মের কুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রধান ছিলেন। দাপুটে সিপিএম নেতার ছেলের এহেন কর্মকাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিড়ম্বনায় পড়েছে জেলা সিপিএমও। সার্টিফিকেট জাল হওয়ার কারণে তাঁর চাকরিও অনিশ্চিত।
পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, ডিআইবি থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নথি ভেরিফিকেশন করা হচ্ছিল। তাতে চণ্ডীপুরের ওই শিক্ষকের বিএড ডিগ্রি জাল বলে চিহ্নিত হয়েছে। তারপরই ডিআইবি শাখার পক্ষ থেকে চণ্ডীপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সুদীপ্ত প্রধানের বাড়ি চণ্ডীপুর ব্লকের কুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন শিমুলবাড়ি গ্রামে। ছাত্র হিসেবে পড়াশোনায় মাঝারি গোছের ছিলেন। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বসার জন্য বিএড বাধ্যতামূলক হয়। সুদীপ্ত উত্তরপ্রদেশের মিরাটের একটি বিএড কলেজের মার্কশিট জমা করে ওই পরীক্ষায় বসেছিলেন। কাউন্সেলিংয়ের প্রথম ধাপগুলি পেরোনোর পরও তিনি চাকরি পাননি। আদালতে মামলা দায়ের করার পর ২০১৯-২০’ সাল নাগাদ বেশ কয়েকজন নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিলেন সুদীপ্তও। তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে চণ্ডীপুরের চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একাত্তর হাইস্কুলে জয়েন করেন। তারপর থেকে পাঁচ বছর চাকরিতে বহাল।
স্কুলে কর্মরত শিক্ষক সহ প্রত্যেক সরকারি কর্মীর নথি যাচাই করে ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ সংক্ষেপে ডিআইবি। ডিআইবি মিরাটের ওই কলেজে সুদীপ্তবাবুর মার্কশিটের কপি পাঠিয়ে ভেরিফাই করেছিল। তাতে রিপোর্ট এসেছে, ওই ডিগ্রি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়ো মার্কশিট ও সার্টিফিকেট বানানো হয়েছে। এরপরই ডিআইবি’র পক্ষ থেকে মঙ্গলবার চণ্ডীপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এই মুহূর্তে স্কুলে ছুটি চলছে। ২ জানুয়ারি স্কুল খুলবে। ছুটির মধ্যেই তাঁদের স্কুলের শিক্ষকের এমন কীর্তি শুনে অবাক একাত্তর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মদনগোপাল দাস। তিনি বলেন, ‘সদীপ্তবাবু ২০১৬ সালে এসএসসি দিয়ে ২০২০ সালে আমাদের স্কুলে জয়েন করেছেন। ভুয়ো বিএড সার্টিফিকেটের বিষয়টি জানতাম না। ২ জানুয়ারি স্কুল খোলার পর এনিয়ে জানতে চাওয়া হবে।’
অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ্ত প্রধান বলেন, ‘আমার সার্টিফিকেট নিয়ে কী সমস্যা, সেটা জানি না। আমি খোঁজ খবর নিয়ে তারপর বলব।’ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ হলে আমাদের কাছে এনিয়ে রিপোর্ট আসবে। তখন বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’