• স্বাধীনতার লড়াই দেখার পরেও দাঁড়াতে হল শুনানির লাইনে, আক্ষেপ অশীতিপর বৃদ্ধার
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দেখেছেন স্বাধীনতার মুহূর্ত। তারপরেও নাম এল শুনানিতে। বাধ্য হয়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে টোটো ভাড়া করে কোনওরকমে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন অশীতিপর শিপ্রা দত্ত। বারাসতে বাড়ি তাঁর। তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বারাসত ১ নম্বর বিডিও অফিসে। লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা বললেন, কী আর করা যাবে! দেশকে স্বাধীনের জন্য লড়াই দেখা সত্ত্বেও আজ নিজের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আগামী দিনে আর কত লাইনে দাঁড়াতে হবে জানি না। এদিকে, বিচারাধীন আসামি ও জেলবন্দিদের পরিবারগুলি এসআইআরের শুনানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলবন্দিদের সংশোধনাগারেই শুনানি হবে। প্রয়োজনে ভার্চুয়ালও হতে পারে।

    বারাসত ১ নম্বর ব্লকের ছোট জাগুলিয়া আইটিআই কলেজে শুনানি হচ্ছে। প্রতিদিনই মানুষ এখানে আসছেন শুনানিতে অংশ নিতে। সকাল থেকেই ভিড় দেখা যাচ্ছে। কেউ হাসপাতাল থেকে সরাসরি ছুটে আসছেন হিয়ারিংয়ে। কেউ আবার শত অসুস্থতা সত্ত্বেও অটো-টোটো ও গাড়ি ভাড়া করে আসছেন। শুনানি কেন্দ্রে বহু প্রবীণ মানুষের দেখা মিলেছে। শিপ্রাদেবী তাঁদেরই একজন। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালে। স্বামী চাকরি করতেন রেলে। তিনি মারা যাওয়ার পর এখন থাকেন বারাসতের ভাটরা পল্লিতে মেয়ের কাছে। সাত-সাতবার স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। কানে শুনতে পান না। ঝুলে গিয়েছে চামড়া। শুনানি কেন্দ্রের সামনে চেয়ারে বসে বললেন, স্বাধীনতার সময় ভারতের মানুষের আনন্দ দেখেছিলাম। কিন্তু এসআইআরে আতঙ্ক দেখছি। আমি অসুস্থ। মেয়ে আমাকে নিয়ে এসেছে। মেয়ে শর্মিষ্ঠা দত্ত বলেন, কী আর করা যাবে! মা অসুস্থ। বলেছিলাম বাড়িতেই শুনানির ব্যবস্থা করছি। কিন্তু হয়নি। বাধ্য হয়ে নিয়ে এলাম টোটোয় করে। শুনানি কেন্দ্রে এসেছিলেন রঘুপতি দে। তিনি বারাসতের একটি স্কুলে চাকরি করতেন। তিনি পেনশনের কাগজ হাতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ক্ষোভের সুরে বললেন, আমার এক ছাত্র শুনানি নেবে। ফলে, খারাপ তো লাগছেই, আমি যে ভারতীয়, তা প্রমাণ করতে হচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানো ফিরদৌসি বিবি বললেন, আমার ছেলে জেলে আছে। এসআইআরের শুনানি করাতে হবে। কীভাবে হবে, বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন কিছু পরিষ্কার করে আমাদের জানায়নি। ছেলের নাম লিস্টে থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। বুধবার, বারাসতে শুনানি কেন্দ্র ঘুরে দেখেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সাধারণ মানুষের কোথাও কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, সেব্যাপারে খোঁজ নেন তিনি। উল্লেখ্য, বারাসত, দেগঙ্গা ও মধ্যমগ্রাম বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর হয়েছেন রথীনবাবু। গণনা কেন্দ্রের পাশের দলীয় হেল্পডেস্কেও বসেছেন তিনি। রথীনবাবু বলেন, আসলে নির্বাচন কমিশন চাইছে বাঙালিদের উপর বুলডোজার চালাতে। অপরিকল্পিত এসআইআরের কারণে মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)