• দুই মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক ধান কিনল খাদ্যদপ্তর, আচমকা সিপিসি পরিদর্শন মন্ত্রী রথীন ঘোষের
    বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো উত্তর ২৪ পরগনাতেও সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে সরকার। প্রথম দিকে ধান কেনায় সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু নভেম্বর মাসের শেষদিকে ধান কেনায় গতি বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক ধান কেনা হয়ে গিয়েছে এই জেলায়। ধান কেনার নিরিখে এই মুহূর্তে রাজ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। জানুয়ারি মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী জেলার খাদ্যদপ্তর। কোথায় কেমন ধান কেনা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে বুধবার বর্ষ বিদায়ের দিনে বারাসত ১ নম্বর ব্লকের একটি সেন্ট্রালাইজড প্রকিওরমেন্ট সেন্টার (সিপিসি) কেন্দ্র ঘুরে দেখলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। কথা বললেন চাষি ও দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষিদের থেকে খরিফ মরশুমের ধান কেনা শুরু হয় অক্টোবর মাসে। প্রথমদিকে চাষিদের মধ্যে এ নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব থাকলেও ধান কেনায় গতি আসে নভেম্বরের শেষ দিকে। ধান কেনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয় সচেতনতার প্রচার। তাতেই চাষিদের মধ্যে ধান বিক্রিতে উৎসাহ বাড়ে। রাজ্যের অন্যান্য এলাকার মতো এই জেলাতেও খরিফ মরশুমে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়। দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া, আমডাঙা ও বারাসত ২ নম্বর ব্লকে কাজের গতি আসে। রাজ্য সরকার প্রতিবার বেনফেড, কনফেড কিংবা নাফেডের মাধ্যমে ধান কেনে। এবার ডব্লুবিইসিএসসি’র মাধ্যমেও ধান কিনছে সরকার। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৪ লক্ষ ৩১ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। সরকারি নথি বলছে, জেলায় ১ লক্ষ ২১ হাজার চাষির কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। প্রথম দিকে রাইস মিলগুলিতে ধান নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হয়। তাতে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়। প্রতি কুইন্টাল ধান এবার কেনা হচ্ছে ২,৩৬৯ টাকায়। সিপিসিতে এসে কৃষকরা ধান বিক্রি করলে অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিভিন্ন বিডিও অফিস এলাকায় যেমন ধান কেনা হচ্ছে, তেমনই মোবাইল ভ্যান নিয়ে গিয়েও ধান কেনা হচ্ছে।

    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যজুড়ে সিপিসি খোলা হয়েছে। সেখানে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। এছাড়াও সমবায় সমিতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও ধান কিনছে। ওজন যাতে স্বচ্ছ হয়, তারজন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সঙ্গে ই-পস যন্ত্রও যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা বাংলার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করছি। আশা করা যায়, দ্রুত টার্গেট পূরণ করা যাবে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান ২ লক্ষ ৭২ হাজার, হুগলি ২ লক্ষ ৩০ হাজার ও মুর্শিদাবাদ জেলা ২ লক্ষ ১২ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনেছে।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)