ধর্মঘট সম্পর্কে অবগতই নন কলকাতার ডেলিভারি কর্মীরা, বাড়ি বসে ১০ মিনিটেই পণ্য পেল শহরবাসী
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শেষদিনে দেশজুড়ে গিগ শ্রমিকরা (যাঁরা অনলাইন ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করেন) ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তেলেঙ্গানার গিগ শ্রমিকদের একটি সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তার প্রভাব কলকাতায় পড়ল না। এ শহরের গিগ শ্রমিকদের অধিকাংশ জানালেন, তাঁরা ধর্মঘটের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। ১০ মিনিটে ডেলিভারির বিরুদ্ধাচারণ, পারিশ্রমিক বাড়ানো সহ একধিক দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। কলকাতার শ্রমিকরা বলেন, ‘ধর্মঘট আছে বলে শুনিনি। এটা ঠিকই যে, পারিশ্রমিক অনেকটাই কমেছে। কাজের সময় বেড়েছে। আমরা কাকে গিয়ে এ সব কথা বলব?’
দক্ষিণ কলকাতার কামালগাজি কুইক কমার্স হাবের এক রাইডার নিয়ম অনুযায়ী জিনিসপত্র নিয়ে ডেলিভারিতে বেরিয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের কামালগাজি হাবে তো সকলেই কাজে এসেছেন। কোনও ধর্মঘটের কথাই শুনিনি।’ একই চিত্র দেখা গেল দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার হাবে। এখানে একইসঙ্গে বেশ কয়েকটি কুইক কমার্স কোম্পানির হাব। প্রতিদিনের মতো এদিনও সকাল থেকে রাইডারা বাইক নিয়ে হাজির। গত দেড়-দু’বছর ধরে ডেলিভারি বয়ের কাজ করছেন অভিষেক শর্মা। বললেন, ‘কাছাকাছি হলে আমরা ১০ মিনিটের আগেই পৌঁছে দিই। একটু দূরে হলে সমস্যা হয়। কিন্তু ইদানীং পারিশ্রমিক অনেকটাই কমে গিয়েছে।’ অভিষেকও এরকম ধর্মঘটের কথা শোনেননি। আর এক গিগ কর্মী অভিজিত্ ঘোষ বললেন, ‘আগে খাবার ডেলিভারি করতাম। এখন বছরখানেক হল কুইক কমার্সে কাজ করছি। একটা সময় ভালো পারিশ্রমিক ছিল। কিন্তু এখন অনেকটাই কমেছে।’ তাঁদের আরও দাবি, যে কোনও সময় আইডি ব্লক করে দেওয়ার সমস্যাতে তাঁদের পড়তে হচ্ছে। সিপিএমের গিগ ওয়ার্কাস ইউনিয়নের নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘এটা তো আর আমরা ডাকিনি। তাই আমরা কাউকে জানাইনি। কিন্তু দাবিগুলোর সঙ্গে আমরা সহমত। এই ধর্মঘট দক্ষিণের রাজ্যের এক ফেডারেশন ডেকেছে।’
দিনকয়েক আগে এই দাবিগুলি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার আজাদগড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন একটি কুইক কমার্সের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, আন্দোলনের পর কিছু দাবি মানা হয়েছে। যদিও এদিনের ধর্মঘট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ালেও তা সেখানেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। অন্তত কলকাতা শহরের শ্রমিকদের কানে সে ডাক পৌঁছয়নি। অর্ডার-এর অপেক্ষায়। বুধবার নাকতলায়। -নিজস্ব চিত্র