পিএইচডির যাবতীয় তথ্য এবার পাওয়া যাবে অনলাইন পোর্টালে, পড়ুয়া-গবেষকদের জন্য নানা উদ্যোগ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: পড়ুয়াদের সুবিধার্থে পরীক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বেশকিছু মৌলিক পরিষেবা চালু করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণা সংক্রান্ত কাজে গবেষকদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে এবং পিএইচডি সেকশনে ঘুরে বেড়ানোর দিন শেষ হতে চলেছে রিসার্চ স্কলারদের। রেজিস্ট্রেশন থেকে সাবমিশন, সবই একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নথিভুক্ত রাখবে বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে, কোন স্কলারের রিসার্চ পেপার কোন পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা এক ক্লিকেই জেনে নিতে পারবেন গবেষকরা। তাই এসব প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁদের আর সময় নষ্ট হবে না। বরং গবেষণাতেই মন দিতে পারবেন তাঁরা।
রাজ্যের মধ্যে তো বটেই, দেশেও পিএইচডির সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রথম দিকেই রয়েছে কলকাতা। কয়েক হাজার গবেষক প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় নিযুক্ত হন। সবচেয়ে বেশি গবেষক বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। শুধুমাত্র সেখানেই ৭০০-৮০০ গবেষক থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতেও প্রচুর গবেষক পিএইচডি করেন। তবে, গোটা ব্যবস্থাই এতদিন ছিল অফলাইন। তাতে গবেষকদের প্রচুর হয়রানি এবং সময় নষ্ট হত। সেই ব্যবস্থারই আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিশ্ববিদ্যালয়। এর পাশাপাশি, আরও একটি মৌলিক পরিবর্তন করতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন বিভাগে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে কেন্দ্রীয়ভাবেই। এক কর্তা বলেন, এতদিন বিভাগগুলি থেকে কোনও প্রতিনিধি প্রশ্নপত্র নিয়ে যেতেন। তাঁদের ট্যাক্সি বা ক্যাবের খরচ দেওয়া হলেও তা বাঁচানোর জন্য তাঁরা বাসে বা অন্য গণপরিবহণ ব্যবহার করতেন। এতে প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নিয়েও ঝুঁকি থাকত। এভাবে অতীতে যে প্রশ্নপত্র হারায়নি তা নয়। এছাড়াও, এভাবে প্রশ্নপত্র পরিবহণ করতে সেটির গোপনীয়তাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকে না। কেউ, কোথাও আগাম প্রশ্নপত্র খুলে দেখে নিচ্ছে কি না, সেটাও জোর দিয়ে বলা যেত না। তাই এবার সরাসরি বিভাগগুলিতে প্রশ্নপত্র পাঠাবে বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশ্নপত্র মডারেশনের বিষয়টিও এবার বিভাগগুলিতেই হবে। এতদিন এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তরে আসতে হত বিভাগীয় শিক্ষকদের। সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে, শিক্ষকদের যাতায়াতের ঝক্কি কমবে। এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, শিক্ষক পদ অনেকাংশেই ফাঁকা। আর শিক্ষাকর্মীর শূন্যপদ পাঁচ হাজার থাকলেও রয়েছেন দেড় হাজারের আশপাশে। এই পরিবর্তনগুলিতে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের উপরেও চাপ কমবে। সিন্ডিকেট বৈঠকে ইতিমধ্যেই বিষয়গুলি সবুজ সংকেত মিলেছে বলেই খবর। পাশাপাশি, বুধবারের বৈঠকে সিলেবাস সংক্রান্ত বেশকিছু পরিবর্তনেও সিলমোহর মিলেছে।