একমাত্র মোদির বারাণসীর জন্য গঙ্গা সাফাই প্রকল্পের ছাড়পত্র, ব্রাত্য বাংলার নবদ্বীপ-দক্ষিণেশ্বর
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদির কেন্দ্র বারাণসীকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ব্রাত্য থেকে গিয়েছে নবদ্বীপ, দক্ষিণেশ্বরের মতো আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলি। ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা (এনএমসিজি)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর এই অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ঘটনা হল, গঙ্গায় ভেসে আসে মৃত জন্তু-জানোয়ারের দেহ থেকে শুরু করে প্লাস্টিক, আবর্জনা ইত্যাদি দেখামাত্র তুলে ফেলতে ভাসমান ‘ট্র্যাশ স্কিমার’ মেশিন চালানোর প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্র। গঙ্গা সংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নদীকে পরিষ্কার রাখতে এই ‘ট্র্যাশ স্কিমার’ চালানোর প্রস্তাব গিয়েছিল বাংলা থেকেও। তবে ২৯ ডিসেম্বর ৬৮তম বৈঠকে শুধুমাত্র বারাণসীতে এই মেশিন চালানোর ছাড়পত্র দিল এনএমসিজি। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হাওড়া পুর এলাকা এবং নবদ্বীপের গঙ্গাবক্ষে এই মেশিন চালিয়েছিল কেন্দ্র। এভাবে ২৮৫ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য তুলে ফেলা হয়েছিল। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে পাঁচ বছরের বেশি। কিন্তু, বারবার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও উদাসীন কেন্দ্র।
গঙ্গাকে পরিষ্কার রাখতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে রাজ্যের তরফেও। ১২৮টি পুর এলাকায় প্রতিদিন ২৭৫৮ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্যের মধ্যে ২০৩৫ মিলিয়ন লিটারের পরিশোধনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করে ফেলেছে রাজ্য। এর মধ্যে ৪৩টি গঙ্গা সংলগ্ন শহরেই প্রতিদিন ৬৮৮ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা রয়েছে। এছড়াও নতুন উদ্যোগ হিসেবে গঙ্গার উপনদী মহানন্দার পারে ৩৬১ কোটি টাকা ব্যাযয়ে একটি দৈনিক ৪৯ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) গড়ে তুলতে চলেছে রাজ্য। এছাড়াও বাঁশবেড়িয়া, উত্তরপাড়া, রানাঘাট সহ একাধিক জায়গায় ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট (এফএসটিপি) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গঙ্গাদূষণ রোধে রাজ্যের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে কেন্দ্র। একাধিক রাজ্যের আধিকারিক এসে বাংলাকে দেখে নিজেদের রাজ্যে গঙ্গা দূষণ রোধে কাজ করেছে। এখানেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের প্রশ্ন, বাংলা কাজে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও কেন ‘ট্র্যাশ স্কিমার’-এর প্রস্তাব মেনে নেওয়া হচ্ছে না?
এনএমসিজি’র এগজিকিউটিভ বৈঠকে গঙ্গার পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনএমসিজির ডিজি রাজীব কুমার মিত্তাল থেকে শুরু করে কেন্দ্রের পদস্থ আধিকারিকরা। সেখানেই উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ একাধিক জায়গায় গঙ্গা দূষণ এড়ানোর পরিকাঠামো তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে ‘ট্র্যাশ স্কিমার’ চালিয়ে গঙ্গা সাফসুতরো রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, বাংলার প্রস্তাব মেনে নিলে নবদ্বীপের মতো হেরিটেজ শহর সংলগ্ন গঙ্গা পরিষ্কার রাখার কাজ আরও ভালোভাবে করা যেত। একইভাবে হাওড়া পুর এলাকার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হলে দক্ষিণেশ্বর এবং বেলুড় মঠ সংলগ্ন গঙ্গাবক্ষ আরও বেশি করে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হতো। - ফাইল চিত্র