৭৭ হাজার গাড়ির মালিক, ২৫ হাজার ডিরেক্টর রেশন গ্রাহক! ‘অবৈধ’ কার্ড খুঁজে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
বর্তমান | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: কেউ এক বা একাধিক গাড়ির মালিক। কেউ আবার আস্ত কোম্পানির ডিরেক্টর। রাজ্যের এরকম লক্ষাধিক ব্যক্তি রেশন গ্রাহক হিসেবে বিনা পয়সায় চাল-গম পাচ্ছেন! এই ধরনের রেশন গ্রাহকদের একটি তালিকা কেন্দ্রের খাদ্য মন্ত্রকের তরফে রাজ্য খাদ্যদপ্তরকে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে রেশন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। যেসব সন্দেহভাজন রেশন গ্রাহক গাড়ির মালিক, তাঁদের নামের জেলাভিত্তিক তথ্য পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তাতে রাজ্যের ৭৭ হাজার ৬৬১ জন রেশন গ্রাহকের তালিকা পাঠানো হয়েছে, যাঁরা গাড়ির মালিক। এর মধ্যে ৮৭৪টি কার্ডের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি, কোম্পানির ডিরেক্টর পদে থাকা ২৫ হাজার ৬৮২ জনের তালিকাও পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১২১টি কার্ডের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন এই ‘অবৈধ’ কার্ড খুঁজে বের করতে হচ্ছে রাজ্যকে? কারণ, কোন কোন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাগরিক রেশন কার্ড পাবেন না, তা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গাইডলাইনে পরিষ্কার বলা আছে। গাড়ির মালিক, কোম্পানির ডিরেক্টর বা আয়করদাতারা রয়েছেন রেশন কার্ড না পাওয়ার তালিকায়। তাই কেন্দ্রের থেকে তালিকা পাওয়ার পরই রাজ্য খাদ্যদপ্তর তদন্ত শুরু করে দেয়। খাদ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। চিহ্নিত কার্ডগুলির মধ্যে বেশ কিছু সক্রিয় অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ এই কার্ডগুলি ব্যবহার করে নিয়মিত রেশনের বরাদ্দ খাদ্যশস্য তোলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকদের একটা বড় অংশকে চিহ্নিত করে রাজ্যগুলিকে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলে কেন্দ্র। এই প্রক্রিয়া চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। রেশন গ্রাহকদের আধার নম্বর সংযুক্তিকরণের পর কেন্দ্র অন্যান্য মন্ত্রকের সহায়তায় এই গ্রাহকদের চিহ্নিত করে, যাঁদের সরকারি ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য পাওয়ার কথা নয়। খাদ্য মন্ত্রকের কয়েক মাস আগের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশ থেকে এরকম ৮ কোটি ৫১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৫২ জন রেশন গ্রাহকের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে। দেশে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আছেন প্রায় ৮০ কোটি মানুষ। অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশকে সন্দেহভাজন রেশন গ্রাহককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ১০ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪০৬টি কার্ড রাজ্য সরকারগুলি ইতিমধ্যে বাতিল করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ১৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৮০২ জন গ্রাহকের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে যাচাইয়ের পর ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩০৯টি কার্ড বাতিল হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে যে কার্ডগুলি বাতিল হয়েছে, তার সিংহভাগই মৃত ব্যক্তি। আর্থিক মাপকাঠিতে রেশন পাওয়ার কথা নয়, এমন গ্রাহকদের চিহ্নিত করে কার্ড বাতিলের কাজ চলছে এখন।