নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার প্রাণকেন্দ্র হল ময়দান এলাকা। জিটি রোড ও মহাত্মা গান্ধী রোডের সংযোগস্থলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাই এখন উন্মুক্ত শৌচালয়। মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুমের বাইরের অংশ কার্যত খোলা শৌচালয়ে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ সর্বক্ষণ। নোংরা জল গড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তার উপর। অস্বস্তিকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে মানুষ।
নাগরিকদের বক্তব্য, কিছু মানুষের সচেতনতা তলানিতে এসে ঠেকেছে। প্রকাশ্যে শৌচকর্ম বন্ধ করতে পুলিশ কোনও উদ্যোগ নেয় না। শাস্তি হিসেবে জরিমানা বা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। হাওড়া ময়দান ঢেলে সাজতে আগে পদক্ষেপ নিয়েছিল পুরসভা ও সিটি পুলিশ। শরৎ সদন সাজানো হয়েছে। রাস্তার ধারে রেলিং বসিয়ে আলাদা ফুটপাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু যানজট সামলাতে হিমশিম খায় পুলিশ। আর যানজটের মাঝে প্রকাশ্যেই চলে শৌচকর্ম। এলাকাটি এখন হাঁটাচলার প্রায় অযোগ্য। জিটি রোড ও এম জি রোডের সংযোগস্থলে নতুন করে তৈরি হচ্ছে একটি মার্কেট কমপ্লেক্স। মেট্রো স্টেশন নির্মাণের সময় যে দোকানগুলি উচ্ছেদ করা হয়েছিল সেই ব্যবসায়ীদেরই এখানে নতুন স্টল দেওয়া হবে। পাশেই রয়েছে মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুম। তার সামনের অংশজুড়েই তৈরি হয়েছে উন্মুক্ত শৌচালয়। নিকাশির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ফুটপাত থেকে গড়িয়ে নোংরা জল ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। মহিলা পথচারীদের কাছে এই পরিস্থিতি রীতিমতো অস্বস্তিকর। অনেকেরই প্রশ্ন, ‘শহরের মূল জায়গায় এমন দূষণ! প্রশাসনের কি কিছুই করার নেই? পুলিশ চাইলে তো জরিমানা করে এই প্রবণতা রুখতে পারে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকের বক্তব্য. ‘প্রতিদিন এত মানুষ যাতায়াত করেন। তা সত্ত্বেও হাওড়া ময়দান চত্বরে কোনও পাবলিক টয়লেট নেই।’ হাওড়া পুরসভা, হাওড়া থানা, বঙ্গবাসী মোড় বা বঙ্কিম সেতুর নীচে টয়লেট রয়েছে। তবে তা অনেকটাই দূরে। ফলে বাধ্য হয়েই রাস্তাতেই শৌচকর্ম করেন অনেকে। এলাকায় ট্রাফিক সামলাতে পুলিশ রাস্তায় থাকে। তবে এই অন্যায় আটকাতে কোনও তৎপরতা নেই তাদের। হাওড়া ময়দানে পাবলিক টয়লেট তৈরির ও নজরদারি বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা। নিজস্ব চিত্র