গিরগিটি নাকি রং বদলায়, কিন্তু মহারাষ্ট্রের ঠানের রাজনীতিবিদ ময়ূর শিন্ডের কাছে গিরগিটিও বোধহয় টিউশন নিতে আসবে! মাত্র ৮ দিন, আর এই ক’দিনের মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে ফেললেন তিনি। না ক্রিকেট বা ফুটবলে নয়, দল বদলের খেলায়। খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগের দাগ যার ‘বায়োডাটা’য় জ্বলজ্বল করছে, তিনিই এখন ‘জনসেবা’ করতে মরিয়া।
২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ছিলেন একনাথ শিন্ডের শিবসেনায়। ২৩ ডিসেম্বর সকালে ভাবলেন, নাহ! হাওয়া ভালো নয়। গত বারের মতো এ বারও টিকিট পাব না। তাই সোজা গিয়েছিলেন BJP-তে। উদ্দেশ্য ছিল ঠানে কর্পোরেশনের ভোটে সাভারকার নগরের টিকিট বাগানো। কিন্তু হায়! সেখানে শিকে ছিঁড়ল না।
তবে ময়ূর ভাই দমে যাওয়ার পাত্র নন। ৩০ ডিসেম্বর অর্থাৎ, নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিনে তিনি আরও একবার ডিগবাজি খেয়ে সোজা পৌঁছন অজিত পাওয়ারের NCP-তে! অবশেষে সেখানে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত টিকিট।
বিভিন্ন দলের পুরোনো বিশ্বস্ত কর্মীরা যখন টিকিট না পেয়ে চুল ছিঁড়ছেন, তখন এই দাগী আসামি ৮ দিনে ৩ বার জার্সি বদলে প্রমাণ করলেন— বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতিতে আদর্শ বলে অবশিষ্ট কিছু নেই, আছে শুধু ক্ষমতার ‘টিকিট’।
এর আগে মহারাষ্ট্রের দাপুটে নেতা সঞ্জয় রাউতকে হুমকি দিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন ময়ূর। এ বার দলবদলের মিউজিক্যাল চেয়ার খেলে নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বিনোদন যোগ করলেন তিনি। বস্তুত ডিগবাজিতে অলিম্পিক পদক জেতার ক্ষমতা আছে তাঁর।
দুঃখের বিষয় ডিগবাজি অলিম্পিক ইভেন্ট নয়, সার্কাসে দেখা যায়। প্রশ্ন হলো জনতা কি ময়ূর ভাইয়ের এবং রাজনৈতিক দলগুলির এই সার্কাস মেনে নেবে? জবাব মিলবে ভোট বাক্সে। ১৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে, তার পরের দিন গণনা।