এই সময়, আলিপুরদুয়ার: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এর প্রথম হিয়ারিংয়ে গোটা রাজ্য থেকেই উঠে আসছে অশীতিপরদের হয়রানির ছবি। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এসবের মাঝে 'সার'-এর শুনানিপর্বে আরও একটি অংশ হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা অবশ্য অশীতিপর নয়, তরতাজা তরুণ। পড়াশোনার সূত্রে অনেকেই রয়েছেন ভিনরাজ্যে। এমনকী, রাজ্যের মধ্যেও খুব কম সময়ের নোটিসে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যাতায়াতে নানা কারণে যাদের সমস্যা তৈরি হয়, তাঁরাও ভোগান্তির শিকার।
আলিপুরদুয়ারেই বুধবার এমন তিন জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা পরীক্ষার কারণে শুনানিতে হাজির থাকতে পারেননি। এ দিন আলিপুরদুয়ার ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শুনানি কেন্দ্রে এসেছিলেন পূর্ব শান্তিনগরের বাসিন্দা তপন সরকার। তাঁর ছেলে কলকাতার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রো বায়োলজিতে এমএসসি করছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলের পরীক্ষা চলছে। এমন সময়ে ছেলেকে নোটিস পাঠিয়ে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে। তপনের কথায়, 'পরীক্ষা ছেড়ে কী ভাবে আসবে বলুন তো! একটা সেমেস্টার নষ্ট হয়ে যাবে তো।'
তপনের মতোই একই এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পালের মেয়ে হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়ছেন। তিনিও পরীক্ষার কারণে এ দিন হিয়ারিংয়ে আসতে পারেননি। শহরের বাসিন্দা জয়া দত্তবণিকের ছেলে ত্রিপুরার আগরতলায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর সমস্যাও একই। তিন জনকেই হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে, কারণ, তাঁরা এনিউমারেশন ফর্মে ২০০২-এর ভোটার তালিকায় পরিবারের কারও সঙ্গে লিঙ্কেজ দেখাতে পারেননি। তাঁদের বাবা-মায়েরা সন্তানদের নথি নিয়ে এ দিন শুনানি কেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁর নামে নোটিস গিয়েছে, তাঁকেই সশরীর হাজির থাকতে হবে। এতেই ফাঁপরে পড়ে যান অভিভাবকরা।
হয়রানির ছবি ধরা পড়তেই 'চাপে পড়ে' নির্বাচন কমিশন বয়স্কদের ক্ষেত্রে শুনানি কেন্দ্রে সশরীর হাজিরার নিয়মের ক্ষেত্রে শিথিলতা এনেছে। কিন্তু এই সমস্ত পড়ুয়া, যাঁরা ভিনরাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প কোনও ব্যবস্থার নির্দেশ এখনও পর্যন্ত আসেনি ইসি-র তরফে। ফলে আধিকারিকরাও এ দিন অভিভাবকদের ঠিক কী বলবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি। আলিপুরদুয়ারের মহকুমাশাসক দেবব্রত রায় বলেছেন, 'পড়ুয়াদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোনও নির্দেশ আসেনি। নোটিস পেলে শুনানি কেন্দ্রে আসতেই হবে। তবে পরবর্তীতে ইসি কোনও গাইডলাইন দিলে সেই মতো বিষয়টি দেখা হবে।' অভিভাবকরাও এমন ভাসা ভাসা জবাব পেয়ে একরাশ সংশয় নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।