• বর্ষশেষের রাতেও বাজির তাণ্ডব, দেদার নিয়মভঙ্গ
    এই সময় | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ইংরেজি বছর শেষেও যেন ফেরত এল দীপাবলির রাত! বর্ষবরণের কথা মাথায় রেখে বুধবার সন্ধে থেকেই অনেক জায়গায় মাইক্রোফোন–ডিজে বাজিয়ে উদযাপন চলছিল। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছোঁয়ার কিছুটা আগে থেকেই শুরু হলো বাজির রোশনাই। তারপরে রাত যত এগিয়েছে ততই বাড়ল বাজির তাণ্ডব। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ তো বটেই, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও মোটের উপরে একই ছবি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, ইংরেজি বর্ষবরণের জন্য রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩৫ মিনিট বাজি পোড়ানো যায়। সে দিক থেকে দেখলে বর্ষবরণের আনন্দে বাজি ফাটানোর মধ্যে ‘ভুল’ কী— এটাই হয়তো যুক্তি দেবেন কেউ কেউ।

    কিন্তু সাধারণ নাগরিক থেকে পরিবেশকর্মীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘সাইলেন্স জ়োন’ বা নিঃশব্দ এলাকায় যেখানে রাত ১০টা পরে শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল ছাড়ানোর কথাই নয়, সেখানে দেদার শব্দবাজি ফাটলো কী ভাবে? কেনই বা কালীপুজো–দীপাবলির আগে যেমন বাজি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়, এক্ষেত্রে সেটা হলো না?

    কেমন ছিল এ দিন রাতের শব্দতাণ্ডবের ছবিটা?

    পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রেকর্ড বলছে, এ দিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তপসিয়ার একটি আবাসন এলাকায় শব্দমাত্রা ছিল ৮১.৫ ডেসিবেল। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৩৬ ডেসিবেল বেশি। আবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের স্বয়ংক্রিয় মেশিনের রেকর্ড অনুযায়ী শব্দমাত্রা পৌঁছয় ৮৩.১১ ডেসিবেলে। অথচ যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরই নিঃশব্দ এলাকা বলে পরিচিত এবং সেখানে রাত ১০টার পরে মাইক্রোফোন বাজানো বা বাজি পোড়ানোর কথাই নয়। আবার বাণিজ্যিক এলাকা বলে পরিচিত সল্টলেক সিটি সেন্টার–১য়ে এ দিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ শব্দমাত্রা ছিল ৬০.৯৯, যা থাকার কথা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল। বিশেষজ্ঞরা অনেকে বলছেন, রাতের শহরে যানবাহনের হর্ন বা অন্যান্য কারণে শব্দমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু এ দিন রাতে শব্দমাত্রা যে জায়গায় পৌঁছেছে, তার পিছনে অনেকটাই দায়ী হলো এই বাজির তাণ্ডব। শুধু কলকাতা নয়, উত্তরে দার্জিলিং থেকে শুরু করে দক্ষিণে সোনারপুর পর্যন্ত প্রায় সর্বত্রই একই ছবি চোখে পড়েছে। দীপাবলির মতো সবুজ বাজির আড়ালে এ দিনও দেদার ফেটেছে নিষিদ্ধ বাজি।

    এমনিতে শীতের শহরে বাতাস ভারী থাকায় বাতাসের গড় দূষণমাত্রাও বেড়েছে। এ দিন মাঝরাতে একঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে যে বাজি ফাটলো, তার জেরে বাতাসের দূষণ কতটা বাড়ল, তা স্পষ্ট হবে আজ, বৃহস্পতিবার।

    পরিবেশকর্মী নব দত্তর কথায়, ‘আমাদের কাছে যা খবর এসেছে, তাতে সল্টলেকের পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিধাননগর উত্তর থানার আশপাশ এলাকা থেকে বাজির তাণ্ডব সংক্রান্ত অনেকগুলি অভিযোগ এসেছে আমার কাছে। কলকাতায় বেহালা, তপসিয়া, পিকনিক গার্ডেন, গড়িয়াহাট, চিংড়িঘাটা, শিয়ালদহ এলাকা থেকেও অনেক অভিযোগ এসেছে। বড়দিন বা নিউ ইয়ার্স ইভের আগে বাজির তাণ্ডব ঠেকাতে প্রশাসনের যে সক্রিয়তা প্রয়োজন ছিল, তা দেখাই যায়নি। ফলে এটা প্রত্যাশিতই ছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)