চম্পক দত্ত: এসআইআর পর্বে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিয়ে মেদিনীপুর পৌরসভার নয়া বিজ্ঞপ্তি। আর এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই চরম বিতর্ক মেদিনীপুরে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, ভূয়ো ভোটারদের সাহায্য করার চেষ্টা! ইলেকশন কমিশনের কাছে এমনই লিখিত অভিযোগ বিজেপির, পালটা সাফাই শাসকদলের চেয়ারম্যানের।
চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। আর এই শুনানি পর্বের মাঝেই মেদিনীপুর পৌরসভার একটি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। বিজ্ঞপ্তিতে লেখা রয়েছে, এসআইআর-এর জন্য রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়লে তা মিলবে মেদিনীপুর পৌরসভা থেকে। এমনকি ১০টা-৫টা অফিস টাইমের বাইরে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পৌর প্রধানের ব্যক্তিগত অফিস থেকেও মিলবে এই "রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট"। এমনকি এই বিজ্ঞপ্তি পৌরসভার চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও পোস্ট করেছেন সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে। এদিকে পৌরসভার এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরেই চর্চা তুঙ্গে।
অন্যদিকে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর থেকেই পৌরসভায় রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পেতে ভিড় জমিয়েছেন একাধিক মানুষ।
জেনে নেওয়া যাত, ইলেকশন কমিশনের গাইডলাইন কী বলছে? কমিশনের গাইডলাইন অনুসারে, এসআইআর-এর শুনানির ক্ষেত্রে যে ১৩ দফা নথি চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে ৬ নম্বরে রয়েছে, "রাজ্যের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র"। অর্থাৎ শুনানিতে জমা দিতে হবে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। আর এই সার্টিফিকেট দেওয়ার একমাত্র অধিকারী হলেন সংশ্লিষ্ট মহকুমার মহকুমা শাসক।
এখন সাধারণ মানুষ কীভাবে পেতে পারেন পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট? মহকুমা শাসকের দফতর থেকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পেতে গেলে জমা দিতে হয় একগুচ্ছ নথি। এরই মধ্যে একটি নথি পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। তারপর সেই নথিগুলো পাঠানো হয় ডিআইবি ভেরিফিকেশনের জন্য। ভেরিফিকেশন রিপোর্টে যদি পাওয়া যায় ১৫ বছর ধরে উনি ওই এলাকার বাসিন্দা, তবেই মিলবে স্থায়ী বাসস্থানের সার্টিফিকেট কিংবা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট।
তাহলে পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট কি নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে? মেদিনীপুরের ERO তথা মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জি জানিয়েছেন, পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট একদমই গ্রহণযোগ্য নয় এসআইআর শুনানির ক্ষেত্রে।
আর এখানেই বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেই পৌরসভার তরফে এভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো দেওয়া হচ্ছে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো ভোটারদের সুবিধা হবে। পৌরসভার দেওয়া এই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিয়ে এসআইআর-এর শুনানিতে গিয়ে মানুষকে আরও বেশি করে বিপদে পড়তে হবে বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে জেলাশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে ইমেইল মারফত গোটা বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।
যদিও তৃণমূল পরিচালিত মেদিনীপুর পৌরসভার পৌর প্রধানের সাফাই, মানুষের সুবিধা করে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পৌরসভার তরফে। এই নথি ইলেকশন কমিশনের এসআইআর-এর কাজে লাগবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এখন মেদিনীপুর পৌরসভার তরফে এমন বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে খুব স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বাড়ছে মেদিনীপুর পৌরসভায়। এসআইআর-এর শুনানিতে যারা ডাক পাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সকাল থেকে হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন মেদিনীপুর পৌরসভার দরজায়। কিন্তু পৌরসভার দেওয়া এই নথি যদি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-এর শুনানিতে গ্রাহ্য না হয় তাহলে সাধারণ ভোটেরদের ভোগান্তি যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন)