সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে বেলেমাটির উপর নির্মাণ করা হয়েছিল গোয়ার সেই অভিশপ্ত নৈশক্লাবটি। শুধু তাই নয়, বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে সেটি ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছিল। তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত ৬ ডিসেম্বর উত্তর গোয়ার আরপোরায় বাগা সুমদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামে জনপ্রিয় নৈশক্লাবটিতে পার্টি চলাকালীন আগুন লেগে যায়। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দুর্ঘটনার নেপথ্যে ছিল একাধিক অনিয়ম এবং বেআইনি নির্মাণ। সেই তত্ত্বতেই এবার শিলমোহর পড়ল। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বেআইনিভাবে ব্যবসা চালাচ্ছিল নৈশক্লাবটি। তা সত্ত্বেও স্থানীয় পঞ্চায়েত কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু তাই নয়, যথাযথ ব্যবস্থা এবং সতর্কতা অবলম্বন না করেই সেখানে আতশবাজি রাখা হয়েছিল।
সম্প্রতি গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের সভাপতিত্বে এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকে এই তদন্ত রিপোর্টটি উপস্থাপিত করা হয়। বুধবার রাজ্য সরকারের তরফে সেটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বেলেমাটির উপর গোটা ক্লাবটির নির্মাণ করা হয়েছিল, যা বেআইনি। ক্লাবটি ভূমি রাজস্ব বিধির ধারা ৩২ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
গোয়ার অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নৈশক্লাবের মালিক সৌরভ লুথরা এবং গৌরব লুথরা। ঘটনার পর তাঁরা থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সম্প্রতিই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা গোয়া পুলিশের হেফাজতে। অন্যদিকে, সিবিআই সূত্রে খবর, নৈশক্লাবের জমির মালিক সুরিন্দরের বিরুদ্ধেও এ বার ব্লু কর্নার নোটিস জারি করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
সুরিন্দর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। গত ৬ ডিসেম্বর নৈশক্লাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি গোয়াতেই ছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে সিবিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর দিন অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর দেশ ছেড়ে চলে যান সুরিন্দর। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে সমনও জারি করে পুলিশ। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। এর পরেই পুলিশ সিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে।