নিজস্ব সংবাদদাতা, বিধাননগর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে নিউটাউনের বুকে বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হতে চলেছে। নিউটাউনের ঝাঁ-চকচকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাত্র দু’বছরের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়াবে এমন একটি মন্দির যার তুলনা মেলা ভার। আর সেই দুর্গাঙ্গন ঠেকাতে এবার কোর্টে যাচ্ছে সিপিএম। নিউটাউনের ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর প্রস্তাবিত জমি ‘বেআইনি’ভাবে দখল করা হয়েছে। তাই দুর্গা অঙ্গন নির্মাণ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আইনি পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন আবাসন মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা গৌতম দেব।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে শহরের অ্যাকশন এরিয়া ১-এর নিউটাউন বাস স্ট্যান্ডের উল্টো দিকে বিশাল আকারের জমিতে ইউনেসকো স্বীকৃত স্থাপত্য ‘দুর্গা অঙ্গন’ নির্মাণকল্পের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার সুপ্রাচীন দুর্গোৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’-র মর্যাদা দিয়েছে ইউনেসকো। সেই জন্য সম্মানকে সংরক্ষিত রাখতেই এত বড় দুর্গা অঙ্গন গড়ার আয়োজন বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর এতবড় উদ্যোগকে ঠেকাতে মরিয়া সিপিএম।
বুধবার বিকেলে নিউটাউনের বিএফ ব্লকের নিজের বাসভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএম নেতা গৌতম দেব অভিযোগ তোলেন, “নিউটাউন একটি পরিকল্পিত শহর। যার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে হিডকো। এই সংস্থার নিয়মে কোথাও উল্লেখ নেই যে এই শহরে সরকারিভাবে মন্দির, মসজিদ তৈরি করা। যা নীতির বিরোধী। শহরের বাসিন্দাদের জন্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে সরকার। কিন্তু সেই নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই ১৭ একরের বেশি জমিজুড়ে দুর্গা অঙ্গন তৈরি করা হচ্ছে।”
সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, নিউটাউনে প্রস্তাবিত দুর্গা অঙ্গনের জমিতে ডালহৌসির অফিস পাড়া গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। বর্তমানে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মূল্যে জমিতে ‘দুর্গা প্রীতি’ তৈরি হয়েছে সরকারের। গৌতম দেব বলেন, “নিউটাউন শহরে মন্দির, মসজিদ গড়তে হলে বাগজোলা খালপাড়ের জমিতে তৈরি করুন। এই নির্মাণের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”