মাত্র সাত মাসেই সিদ্ধান্ত বদল! শহরের পার্কিং তুলে দিল চুঁচুড়া পুরসভা
আনন্দবাজার | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
চুঁচুড়া পুরসভায় চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর বুধবার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ প্রথম বোর্ড মিটিং করেন। সেখানেই আগের চেয়ারম্যান অমিত রায়ের বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত বদল করল বর্তমান পুর বোর্ড। নতুন চেয়ারম্যান সৌমিত্রের নেতৃত্বে পুর বোর্ড শহরবাসীর জন্য পার্কিং সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চুঁচুড়া শহর অত্যন্ত প্রাচীন একটি শহর। রাস্তাঘাট অপ্রশস্ত। নির্দিষ্ট করে কোন জায়গায় পার্কিং করতে পারতেন না শহরে আসা মানুষজন। যে কারণে যানজট লেগেই থাকে। গত মে মাসে পুরসভার আর্থিক অবস্থা সচ্ছল করতে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় ‘পার্কিং জ়োন’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছিল। শহরে পার্কিং ব্যবস্থা চালু করে একদিকে যেমন যানজট সমস্যায় লাগাম দিতে চেয়েছিল আগের পুর বোর্ড। অন্য দিকে কিছুটা আর্থিক দিকেও লাভবান হচ্ছিল পুরসভা। তবে নতুন চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষের অভিযোগ, যাঁরা টেন্ডার নিয়ে এই পার্কিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তাঁরা শহরের কয়েকটি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করে টাকা তুলছিলেন। তাঁদের কাজ ঠিক হচ্ছিল না। উল্টে হয়রানি বাড়ছে বলে অভিযোগ চেয়ারম্যানের। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে সে কথা জানান সৌমিত্র। ছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও।
নতুন বছর থেকেই চুঁচুড়া শহরে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আর কোনও টাকা দিতে হবে না। এই সিদ্ধান্ত পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে গৃহীত হয়েছে। সৌমিত্র জানান, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। অসিত জানান, কেএমডিএ-র কাছে ২১০টি রাস্তার সংস্কার ও নির্মাণের আবেদন করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৮৮টি রাস্তার অনুমোদন মিলেছে পথশ্রী প্রকল্পের অধীন। ১ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে নববর্ষ থেকেই রাস্তা নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হয়ে মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ‘আমাদের পাড়া–আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় নিকাশি ব্যবস্থা, জলকল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র-সহ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।
এ ছাড়াও প্রত্যেক রবিবার বিধায়ক ও চেয়ারম্যানে পুরসভায় জনতার দরবার বসিয়ে নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন এবং সমস্যার সমাধান করবেন। শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কাউন্সিলরদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন চেয়ারম্যান। এর জন্য মাসে অন্তত একদিন কাউন্সিলর সাফাই কাজ তদারকি করবেন তাঁর ওয়ার্ডে।