এই সময়, বারাসত ও পানিহাটি: ক্ষিতিমোহন ঘোষের বয়স ৮৪ বছর। সম্প্রতি কোমরের হাড়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাঁটাচলা করতে পারেন না, কানেও শোনেন কম। ক্ষিতিমোহন এবং তাঁর স্ত্রী সুমিতা ঘোষের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বুধবার বৃদ্ধ দম্পতির বারাসতের আবাসনে গিয়ে তাঁদের শুনানি করিয়েছেন বারাসত-১ ব্লকের বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী। বাড়িতে এসে শুনানি করায় ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের প্রশংসা করেছেন অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতি। উল্টো ছবি দেখা গেল পানিহাটি বিধানসভার সোদপুর হাইস্কুলের শুনানি সেন্টারে।
কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে, অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের শুনানি করতে হবে বাড়িতে গিয়ে। কিন্তু এর পরেও এ দিন ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত ৮০ বছরের বৃদ্ধ নারায়ণ হালদারকে হুইল চেয়ারে করে শুনানি সেন্টারে আসতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের অমানবিকতা এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। নারায়ণের বাড়ি পানিহাটি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দিরা কলোনিতে। নারায়ণ বলেন, '২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। ফর্মে কী ভুল হয়েছে জানি না।' অন্যদিকে, অশোকনগর বিধানসভার দু'টি বুথের মোট ৪৯২ জন ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার লিঙ্কেজ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটাররা। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শুনানিতে ডেকে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট বুথের দুই বিএলও-র দাবি, 'নামের বানান, ভোটার কার্ডের নম্বর ভুল-সহ অন্যান্য ত্রুটির কারণে তাদের শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে।' অশোকনগর বিধানসভার অধীনে গুমা-২ পঞ্চায়েতের ১২৮ নম্বর বুথের ২৪১ জন ভোটারদের নো ম্যাপিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভোটার মহিলা। তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, 'এ ভাবেই বহু যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই বুথের একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলন হবে।' অশোকনগর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে ১৬২ নম্বর বুথ। এই বুথের ২৫১ জন ভোটারদের নো ম্যাপিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।